গ্রেপ্তারি থেকে মুক্তি আর ৫ কোটি পর্যন্ত কর ফাঁকিতে ছাড়! জিএসটি আইনে বিপ্লব আনতে চলেছে কেন্দ্রের মাস্টারস্ট্রোক

আগামীকাল মঙ্গলবার বসতে চলেছে জিএসটি (GST) কাউন্সিলের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক বৈঠক। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন যাকে ‘দ্বিতীয় প্রজন্মের সংস্কার’ বলে অভিহিত করেছেন, সেই বৈঠকে জিএসটি কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের একাধিক প্রস্তাব পেশ হতে চলেছে। এই প্রস্তাবগুলি পাস হলে দেশের কর ব্যবস্থা ও ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
মঙ্গলবারের এই বৈঠকের আলোচ্য সূচির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল জিএসটি আধিকারিকদের সাধারণ বা রুটিন গ্রেপ্তারের ক্ষমতা সীমিত বা বাতিল করা। প্রস্তাব অনুযায়ী, কর ফাঁকি বা অন্যান্য ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে আধিকারিকেরা সরাসরি কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারবেন না, এর জন্য এবার আদালতের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
পাশাপাশি, আইনি পদক্ষেপের ক্ষেত্রেও আসছে বড় স্বস্তি। ফৌজদারি মামলা শুরু করার ন্যূনতম আর্থিক সীমা ১ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত কর ফাঁকির অভিযোগে আর কোনো ফৌজদারি মামলা করা হবে না, জিএসটি আধিকারিকরাই আইনানুগ উপায়ে সেই অভিযোগের নিষ্পত্তি করবেন। এছাড়া পণ্য বা পরিষেবার শ্রেণিবিন্যাস, মূল্যায়ন কিংবা ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট (ITC) সংক্রান্ত বিরোধগুলিকেও ফৌজদারি মামলার আওতা থেকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
শিল্প ও বণিক সমাজের দীর্ঘদিনের অভিযোগ এবং অসন্তোষ দূর করতেই এই বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে কেন্দ্র। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের ধারণা, অ-বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিরও সমর্থিত এই প্রস্তাবগুলি পাস হলে দেশের অর্থনৈতিক বাজারে কেন্দ্রীয় সরকার ও শাসকদলের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এক নিবন্ধে স্পষ্ট করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী চিন্তার আলোকে করের হার কমানো এবং ব্যবসার পথ সহজতর করার লক্ষ্যেই এই পরবর্তী প্রজন্মের জিএসটি সংস্কার আনা হচ্ছে।