গোপাল শেঠের হাতে কি পৌঁছেছে দলের চিঠি? রদবদলের ইঙ্গিতে উদ্বিগ্ন পুরসদস্যরা, ‘প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা’ কাটাতে মরিয়া তৃণমূল

বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে বনগাঁ পুরসভাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে: তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে কি বনগাঁ পৌরসভার চেয়ারম্যান গোপাল শেঠকে তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বলা হয়েছে? এবং দলের সেই আনুষ্ঠানিক চিঠি কি তাঁর হাতে পৌঁছেছে? এই প্রশ্নগুলিই এখন বনগাঁ শহরের অলিগলিতে ঘুরপাক খাচ্ছে।

সূত্রের খবর ও গোপাল শেঠের প্রতিক্রিয়া:

সূত্রের খবর অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেলে তৃণমূলের জেলা নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ফোনের মাধ্যমে গোপাল শেঠের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এরপরই একটি আনুষ্ঠানিক চিঠিও তাঁকে পাঠানো হয়। তবে গোপাল শেঠের ঘনিষ্ঠ মহল দাবি করেছে যে, চিঠিতে কিছু ‘ত্রুটি’ রয়েছে, তাই সেটি এখনও কার্যকর হয়নি।

এ বিষয়ে গোপাল শেঠের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। তাঁর প্রতিক্রিয়া ছিল— “আমি কোনো বিষয়েই কোনো মন্তব্য করব না।”

তাঁর এই সামান্য মন্তব্যই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। এই পরিবর্তনের ইঙ্গিতে পুরসদস্যদেরও উদ্বিগ্ন হতে দেখা গেছে।

রদবদলের কারণ: প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা ও লোকসভার ফল:

তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব পুর প্রশাসনে রদবদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর মূল লক্ষ্য হলো ‘প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা’ কাটানো এবং গত লোকসভা নির্বাচনে বনগাঁ কেন্দ্রে তৃণমূলের পরাজয়ের ক্ষত মেরামত করা।

তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক (I-PAC) দুর্গাপুজোর আগে বনগাঁ শহর জুড়ে একটি সমীক্ষা চালায়। সূত্রের দাবি, আইপ্যাক গোপনে পুরসদস্যদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলে একটি রিপোর্ট দলের উচ্চ নেতৃত্বের কাছে জমা দেয়। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই নাকি পুরপ্রধানের পদে পরিবর্তন আনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, উত্তর ২৪ পরগনার পাঁচটি লোকসভা আসনের মধ্যে তৃণমূল চারটিতে জয়ী হলেও বনগাঁ কেন্দ্র ছিল একমাত্র ব্যতিক্রম, যেখানে বিজেপি জয়ী হয়েছিল। বনগাঁ পুরসভার ২২টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতেই বিজেপি এগিয়েছিল, এই পরিসংখ্যানই দলের অন্দরে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন পুরপ্রধান বদল হলে পরবর্তী মুখ কে হবেন, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।