গাজার শিশুর কান্নার সঙ্গে সীমান্তে বৈধ ভোটারের আর্তনাদ এক! চাঞ্চল্যকর দাবি দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের

গাজার যুদ্ধে স্বজনহারা শিশুদের কান্নার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় নাম বাতিল হওয়া বৈধ ভোটারদের আর্তনাদের কোনো পার্থক্য নেই। এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে সরব হলেন সিপিআইএমএল লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। এসআইআর (SIR) ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত ইস্যুতে রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে কার্যত ‘নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার রাজনৈতিক অপকৌশল’ হিসেবেই চিহ্নিত করলেন তিনি।

সোমবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে দীপঙ্কর ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, নরেন্দ্র মোদি সরকার নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে বিহারের কায়দায় বাংলাতেও বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া চালিয়েছে। এই প্রক্রিয়ার জেরে রাজ্যের প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম বাতিল বা তথ্যগত অসংগতির অজুহাতে বিচারাধীন অবস্থায় আটকে রাখা হয়েছে।

এদিনের সম্মেলনে হাজির ছিলেন এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাতিল হওয়া বেশ কিছু ভুক্তভোগী পরিবার। তাঁদের হাতে ছিল বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড। কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, “ভোট যাচাই না ভোট কাটাই?” আবার কারো প্রশ্ন, “শত শত বছর বাস করেও আমাদের নাম তালিকা থেকে বাদ কেন?” সিপিআইএমএল-এর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ও কলকাতা হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে ১৯টি ট্রাইব্যুনাল গঠিত হলেও, সেই ট্রাইব্যুনালগুলির কার্যপদ্ধতি বা অবস্থান সম্পর্কে সাধারণ নাগরিকদের কিছুই জানানো হয়নি।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কলকাতা হাইকোর্টে একটি গণ-পিটিশন জমা দিয়ে জনস্বার্থ মামলা করার আবেদন জানিয়েছে সিপিআইএমএল লিবারেশন। দলের দাবি, বাতিল হওয়া নাম পুনর্বহাল করতে হবে এবং বিচার প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন, “ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার মাধ্যমে মূলত নাগরিকদের নাগরিকত্ব হারানোর আশঙ্কা তৈরি করা হচ্ছে। আমরা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বঞ্চিতদের ২০ হাজার স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছি।”

আগামী জুলাই মাসে এই ২০ হাজার স্বাক্ষরসহ ডেপুটেশন নিয়ে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। দলের মতে, এই জনস্বার্থ মামলা কেবল আইনি লড়াই নয়, বরং প্রান্তিক মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার এক চূড়ান্ত সংগ্রাম। সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষ যারা বংশানুক্রমে এই মাটিতে বাস করছেন, তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় মুছে ফেলার এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে লিবারেশন বড়সড় আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিষয়টি এখন আদালত ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।