গরিবের জব কার্ড ও নথি কি তৃণমূলের দখলে? পার্টি অফিসে তল্লাশি চালিয়ে গ্রামবাসীদের বিস্ফোরক কাণ্ড

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং পশ্চিম বিধানসভার থুমকাটি এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই গোটা জেলায় রাজনৈতিক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিসের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের জব কার্ড, রেশন কার্ড, ভোটার কার্ড এবং সাধারণ মানুষের ব্যাঙ্ক পাসবুকের মতো সংবেদনশীল নথি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘ দিন ধরেই ওই এলাকায় সরকারি বিভিন্ন সুবিধা না পাওয়ার অভিযোগ উঠছিল। সাধারণ মানুষের অভিযোগ ছিল, বারবার আবেদন করার পরেও তারা সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এর মধ্যেই বুধবার আচমকাই গ্রামবাসীদের নজরে আসে যে, থুমকাটি এলাকার তৃণমূল পার্টি অফিসে বিপুল পরিমাণ নথি রাখা রয়েছে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ দলবদ্ধ হয়ে ওই পার্টি অফিসের সামনে জড়ো হন।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়ে সরকারি নথিপত্র দলীয় কার্যালয়ে সরিয়ে রাখা হয়েছে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তড়িঘড়ি পার্টি অফিসে চড়াও হন এবং তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার বাড়িতেও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তারা। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দুর্নীতির কারণেই সাধারণ মানুষের এই নথিগুলো হাতিয়ে নিয়েছিল স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। এই নথিপত্রগুলো সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে না দিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থে বা ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
ঘটনার খবর পেয়েই ক্যানিং থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উত্তেজনা প্রশমিত করতে পুলিশকে বেগ পেতে হয়। গ্রামবাসীর ক্ষোভ এবং অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ওই কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া সমস্ত সরকারি নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, কী কারণে বা কোন উদ্দেশ্যে এই বিপুল পরিমাণ সরকারি নথিপত্র তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে মজুত ছিল, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র নিন্দা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনামলে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা বণ্টন প্রক্রিয়ায় যে ব্যাপক দুর্নীতি চলছে, এটি তারই প্রমাণ। সাধারণ মানুষের জব কার্ড, ভোটার কার্ড ও ব্যাঙ্ক পাসবুক পার্টি অফিসে পাওয়ার অর্থ হলো—সরকারি পরিষেবা এখন সম্পূর্ণভাবে দলীয় নেতৃত্বের কবজায়। যদিও তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই ঘটনা নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তদন্ত শুরু করেছে ক্যানিং থানার পুলিশ। উদ্ধার হওয়া জব কার্ড ও অন্যান্য নথিগুলো প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে কি না, তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা চলছে। এই ঘটনার তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে বড় ধরনের প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এলাকার বাসিন্দারা এখন প্রকৃত সত্য উদঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছেন।