গন্ধরাজ লেবুর জাদুতে মাতবে পুজোর পাত! নামিদামী হোটেলের স্বাদ এবার একেবারে আপনার হাতের মুঠোয়!

অষ্টমীর দুপুরে প্যান্ডেল হপিং শেষে পেটে মারাত্মক খিদে নিয়ে কোনও নামিদামী রেস্তোরাঁর বাইরে দীর্ঘ লাইন কিংবা মাথার ওপর প্যাচপেচে গরমে কার না মেজাজ বিগড়ে যায়! আবার এই ভিড় ঠেলে বাড়ি ফিরে রান্নাঘরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা খুন্তি নাড়তেও চরম বিরক্তি আসে। উৎসবের দিনে কবজি ডুবিয়ে খাওয়াও হবে, আবার রান্নাঘরে বেশি সময়ও কাটাতে হবে না—এমন জাদুকরি পদের খোঁজ থাকলে আজই বানিয়ে ফেলুন সুস্বাদু গন্ধরাজ ভেটকি (Gondhoraj Bhetki)।
বাঙালির পুজো মানেই পাতপেড়ে মাছ-ভাত, আর এই দুটোর সম্পর্ক একেবারে গলায় গলায়। রুই-কাতলার চেনা স্বাদ তো সারা বছরই পাতে পড়ে, তবে পুজোর স্পেশাল দিনে একটু অন্যরকম কিছু না হলে কি আর মন ভরে! রেস্তোরাঁর স্বাদ যদি খুব সহজেই ডাইনিং টেবিলে চলে আসে, তবে তার চেয়ে ভালো পাওনা আর কী বা হতে পারে। গন্ধরাজ লেবুর মনমাতানো সুবাস আর ভেটকি মাছের নরম তুলতুলে স্বাদ—এই দুইয়ের যুগলবন্দি যে কোনও ভোজনরসিকের মন জয় করতে বাধ্য।
এই লোভনীয় পদটি তৈরির জন্য খুব সামান্য কিছু উপকরণের প্রয়োজন হয়। বাজার থেকে শুধু ভেটকি মাছের ফিলে, গন্ধরাজ লেবু ও কলাপাতা কিনে আনলেই রান্নার অর্ধেক কাজ শেষ। এর সঙ্গে লাগবে আদা কুচি, চেরা কাঁচালঙ্কা, টক দই, ফ্রেশ ক্রিম, ফেটানো ডিম, সামান্য পাতিলেবুর রস এবং স্বাদমতো নুন ও চিনি।
রেস্তোরাঁর মতো স্বাদ বাড়িতে আনা কিন্তু একেবারেই ঝক্কির কাজ নয়। প্রথমেই ভেটকির ফিলেগুলোতে নুন, পাতিলেবুর রস এবং আদা-কাঁচালঙ্কা কুচি মাখিয়ে অন্তত পনেরো মিনিট ম্যারিনেট করে রেখে দিতে হবে। এই সময়টা খুব জরুরি, কারণ এতে মাছের ভেতরে মসলার স্বাদ খুব ভালোভাবে ঢুকে যায়। এরপর একটি পাত্রে টক দই, ফ্রেশ ক্রিম, ফেটানো ডিম, সামান্য গন্ধরাজ লেবুর খোসা গ্রেট করা, নুন ও চিনি একসঙ্গে মিশিয়ে নিতে হবে। আগের থেকে ম্যারিনেট করা মাছের গায়ে এই দইয়ের মিশ্রণটি ভালোভাবে মাখিয়ে নিতে হবে।
এবার কলাপাতা নিয়ে তার ওপর মাছের টুকরোগুলি সাবধানে রেখে, ওপর থেকে একটি চেরা কাঁচালঙ্কা ও এক টুকরো গন্ধরাজ লেবু দিয়ে কলাপাতাটি মুড়ে সুতো দিয়ে ভালো করে বেঁধে দিতে হবে। সবশেষে গরম আঁচে ভাপিয়ে নিলেই একেবারে রেস্তোরাঁর কায়দায় তৈরি হয়ে যাবে গন্ধরাজ ভেটকি। ধোঁয়া ওঠা গরম ভাতের সঙ্গে এই পদের জুড়ি মেলা ভার। খুব কম সময়েই এই রাজকীয় পদ তৈরি করা যায়, তাই পুজোর ভিড়ে বাইরে খাওয়ার ক্লান্তি ভুলে উৎসবের আনন্দ দ্বিগুণ করতে আজই ট্রাই করুন এই দারুণ রেসিপি।