গণধর্ষণ, হত্যা ও প্রমাণ লোপাট! ৬ বছর পর দিশা সালিয়ান মামলায় উদ্ধব-আদিত্য-রিয়ার বিরুদ্ধে সিবিআই-এর মারাত্মক FIR

দীর্ঘ ছয় বছর পর শেষমেশ বলিউডের অন্যতম রহস্যজনক ও হাই-প্রোফাইল দিশা সালিয়ান মৃত্যু মামলায় সিবিআই (CBI)-এর বড় পদক্ষেপ। তৎকালীন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে, তাঁর ছেলে আদিত্য ঠাকরে, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখ এবং অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তীসহ ১০ জনেরও বেশি প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করল কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা। প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের প্রাক্তন ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের বাবার আবেদনের ভিত্তিতে গত ২ সেপ্টেম্বর বোম্বে হাইকোর্ট এই কেসের ভার সিবিআই-এর হাতে তুলে দিয়েছিল।
২০২০ সালের ৮ই জুন গভীর রাতে মুম্বাইয়ের মালাডের একটি বহুতল ভবন থেকে রহস্যজনকভাবে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয় দিশা সালিয়ানের। তার ঠিক ৬ দিন পরেই সুশান্ত সিং রাজপুতের দেহ উদ্ধার হয়েছিল। সেই ঘটনার ৬ বছর পর কেন্দ্রীয় সংস্থা তদন্ত হাতে নিতেই চরম উত্তাল রাজ্য রাজনীতি।
দিশা মামলায় সিবিআই-এর মূল ৫টি আপডেট:
মূল অভিযুক্ত: তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে, আদিত্য ঠাকরে, অনিল দেশমুখ ও রিয়া চক্রবর্তীসহ ১০+ জন।
মামলার নির্দেশক: দিশা সালিয়ানের বাবা সতীশ সালিয়ানের আবেদনের ভিত্তিতে বোম্বে হাইকোর্টের সিবিআই নির্দেশ।
শীর্ষ পর্যায়ের তদন্ত: হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, সিবিআই-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি এই মামলার তদন্ত তদারকি করবেন।
আদালতের বার্তা: হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, এফআইআর দায়ের মানেই কেউ দোষী প্রমাণিত হওয়া নয়; সিবিআই প্রমাণের ভিত্তিতে চূড়ান্ত ক্লোজার রিপোর্ট জমা দেবে।
গুরুতর ধারায় কেস: গণধর্ষণ, হত্যা এবং তথ্য-প্রমাণ লোপাটসহ ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা রজু।
কোন কোন সাংঘাতিক ধারায় মামলা রুজু করল সিবিআই?
বোম্বে হাইকোর্টের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় সংস্থা ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) অত্যন্ত গুরুতর কিছু ধারায় এফআইআর দায়ের করেছে, যা তৎকালীন মহারাষ্ট্র প্রশাসন ও বলিউড ঘনিষ্ঠদের বড় বিপাকে ফেলতে পারে:
| ধারা | বিবরণ ও অভিযোগ |
| ১২০-বি (120B) | ফৌজদারি ষড়যন্ত্র রচনা। |
| ৩৭৬-ডি (376D) | গণধর্ষণ বা গ্যাংরেপ। |
| ৩০২ (302) | পরিকল্পিত হত্যা মামলা। |
| ২০১ (201) | অপরাধের প্রমাণ নষ্ট করা এবং মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করা। |
| ২১৭ ও ২১৮ | অভিযুক্তকে বাঁচাতে সরকারি পদ ক্ষমতার অপব্যবহার ও মিথ্যা নথি তৈরি। |
কী অভিযোগ এনেছে সিবিআই?
সিবিআই-এর প্রাথমিক এফআইআর-এ ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, এটি কেবল দুর্ঘটনা বা আত্মহত্যা ছিল না। ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতে তৎকালীন প্রভাবশালীদের ভূমিকা ছিল কি না, কোনো চক্রকে আড়াল করতে সরকারি নথি ও প্রমাণ বিকৃত করা হয়েছিল কি না—তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হবে।
তবে বোম্বে হাইকোর্ট তাদের রায়ে একটি আইনি বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছে, সিবিআই-এর এই এফআইআর কোনো অভিযুক্তের চূড়ান্ত দোষ নিশ্চিত করে না। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যপ্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি করবে সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন।