‘খেলা পণ্ডকারী’ নাকি ‘গণতন্ত্রের রক্ষক’? নির্বাচন কমিশনের দিকে মিছিল ও রাহুল কাণ্ডে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি!

নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরের দিকে প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় আকাশবাণী ভবনে জোরপূর্বক প্রবেশের অভিযোগে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। আর এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে শাসক দল বিজেপি এবং বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবির যেখানে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী আচরণের অভিযোগ তুলেছে, অন্যদিকে বিজেপি পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে দাবি করেছে যে কংগ্রেস নেতা দেশে ইচ্ছাকৃতভাবে নৈরাজ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছেন এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে কালিমালিপ্ত করছেন।
সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচন পরিচালনার বিভিন্ন ত্রুটির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে একটি প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছিল বিরোধী জোট। সেই মিছিল থেকেই নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি এবং আকাশবাণী ভবনে প্রবেশের ঘটনা ঘটে। এই প্রসঙ্গে কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদ রাহুল গান্ধীর পাশে দাঁড়িয়ে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। সংবাদসংস্থাকে তিনি জানান, রাহুল গান্ধী বিরোধী দলনেতা এবং তাঁর সঙ্গে অনান্য সাংসদরাও ছিলেন, তিনি কোথাও জোর করে প্রবেশ করেননি। এই একটি এফআইআর দিয়ে তাঁদের আটকানো যাবে না এবং শেষ পর্যন্ত তাঁরা লড়াই চালিয়ে যাবেন।
অন্যদিকে, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার (JMM) নেতা মনোজ পাণ্ডে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে দাবি করেছেন যে, জনস্বার্থের দাবিতে বিরোধীদের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান দেখে ভয় পেয়ে গেছে কেন্দ্রীয় সরকার। স্বৈরাচারী সরকার ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে তোপ দেগে তিনি বলেন যে চরম অবস্থার পতন সবসময়ই নিশ্চিত।
তবে এই ঘটনায় একচুলও জমি ছাড়তে নারাজ শাসক শিবিরও। বিজেপি এমএলসি পরিণায়ে ফুকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে, দেশ যখন সার্বিক উন্নতি ও শিল্পায়নের পথে দ্রুত এগিয়ে চলেছে, তখন এই ধরনের ভিত্তিহীন প্রতিবাদ ও বিশৃঙ্খলা দেশের অগ্রগতিকেই বাধাগ্রস্ত করছে। পাশাপাশি বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সিআর কেশবন রাহুল গান্ধীকে ‘খেলা পণ্ডকারী’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, গণতান্ত্রিকভাবে ভোটে জিততে না পেরে রাহুল এখন হতাশা থেকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর আক্রমণ চালাচ্ছেন এবং এক প্রকার নৈরাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী শক্তির মতো আচরণ করছেন। সবমিলিয়ে, এই হাই-ভোল্টেজ রাজনৈতিক সংঘাতে জাতীয় রাজনীতি এখন উত্তপ্ত।