খুনের আসামি, মকোকার অভিযুক্ত, কীভাবে পাসপোর্ট পেল কুখ্যাত গ্যাংস্টার নীলেশ ঘায়োল? হাইকোর্টের নির্দেশও উপেক্ষিত।

খুন ও চাঁদাবাজিসহ এক ডজনেরও বেশি ফৌজদারি মামলার অভিযুক্ত পুনের কুখ্যাত গ্যাংস্টার নীলেশ ঘায়োল পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে বিদেশে পালিয়েছে। পাসপোর্টের ভেরিফিকেশনের সময় পুলিশ তাকে ‘ঠিকানায় নেই’ (“not available”) বলে চিহ্নিত করেছিল, যা একটি নেতিবাচক রিপোর্ট হিসাবে গণ্য হয়। এই রিপোর্ট সত্ত্বেও তার পাসপোর্ট ইস্যু হওয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

সম্প্রতি কোথরুদ এলাকায় ঘায়োল গ্যাংয়ের সহিংস হামলার তদন্ত চলাকালীন পুনে সিটি পুলিশ তার বিদেশে পালানোর বিষয়টি জানতে পারে এবং সঙ্গে সঙ্গে ‘লুক-আউট সার্কুলার’ (LOC) জারি করে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ঘায়োল গ্যাংয়ের সদস্যরা প্রকাশ ধুমাল নামে এক বাসিন্দা এবং ১৯ বছরের ছাত্র বৈভব সাঠেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে। দু’জনকেই হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।

এই ঘটনার পর পুলিশ গ্যাংয়ের পাঁচ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে এবং ঘায়োল ও তার আট সদস্যের বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্র কন্ট্রোল অফ অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যাক্ট (Mকোকা-MCOCA) ধারায় মামলা রুজু করে। তদন্তের সময় তার বেশ কয়েকটি গাড়িও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, ঘায়োল প্রথমে লন্ডনে পৌঁছায় এবং বর্তমানে ৯০ দিনের ভিসায় সুইজারল্যান্ডে রয়েছে। আহিল্যানগরের পুলিশ সুপার সোমনাথ ঘার্গে জানান, ঘায়োল ২০১৯ সালে তাতকাল পাসপোর্টের জন্য আবেদন করে আহিল্যানগরের একটি ঠিকানা দিয়েছিল। পুলিশ ভেরিফিকেশনে তাকে সেই ঠিকানায় পাওয়া যায়নি এবং আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে ‘ঠিকানায় নেই’ বলে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছিল। এই নেতিবাচক রিপোর্ট সত্ত্বেও কীভাবে পাসপোর্ট ইস্যু হলো, তা নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।

২০০০ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত কুখ্যাত গ্যাংস্টার গজা মার্নের হয়ে কাজ করত নীলেশ ঘায়োল। পরে দুজনের মধ্যে বিরোধ শুরু হওয়ায় তাদের গোষ্ঠীর মধ্যে একাধিক সহিংস সংঘর্ষ হয়। তার বিরুদ্ধে এর আগেও এমপিডিএ অ্যাক্ট-এর অধীনে আটক এবং মকোকা আইনে মামলা ছিল। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, হাইকোর্ট তাকে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলেও সেই নির্দেশ অমান্য করে সে বিদেশে পালায়। অভিযোগ, বিদেশে থেকেই সে পুনেতে তার গ্যাংয়ের মাধ্যমে অপরাধমূলক কাজ পরিচালনা করছে, অন্যদিকে তার সন্তানরা বিদেশে পড়াশোনা করে। সমস্ত আইনি নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে সে কীভাবে দেশ ছাড়ল, তার তদন্ত চলছে।