‘খাম’ প্রতীক বণ্টন কাণ্ডে নির্বাচন কমিশনকে তুলোধনা হাইকোর্টের! বিচারপতির মন্তব্যে শোরগোল

রাজ্যের আসন্ন উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদের উত্তাপের মধ্যেই এবার প্রতীক বণ্টন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। ISF-এর করা মামলার শুনানি শেষে রায়দান আপাতত স্থগিত রাখলেও, বিচারপতির কঠোর পর্যবেক্ষণ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বিচারপতির সরাসরি প্রশ্ন, নির্বাচনের মাত্র দু’দিন আগে কমিশন কীভাবে অজুহাত দেয় যে হাতে সময় নেই? এই ধরনের একতরফা সিদ্ধান্ত কমিশনের নিরপেক্ষতাকে চরম প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
শুনানি চলাকালীন আদালত সাফ জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের উচিত আদালতের কাছে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ থাকা। আদালত অত্যন্ত কড়া ভাষায় মন্তব্য করে জানায়, নির্বাচন কমিশন যদি কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের দ্বারা পরিচালিত হয়, তবে প্রশাসনিক ব্যবস্থার আর কী-ই বা অবশিষ্ট থাকে! প্রসঙ্গত, গত ১৬ সেপ্টেম্বর তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে প্রতীক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মনোনয়ন পর্ব শেষ হওয়ার পর ১৭ সেপ্টেম্বর কমিশন একটি বিশেষ প্রতীক বণ্টন করেছিল। কিন্তু অপর একটি পক্ষ প্রতীক চেয়ে আবেদন করা সত্ত্বেও কমিশন কেন তা বিবেচনা করল না, সেই বিষয়ে স্পষ্ট জবাব তলব করেছে আদালত।
কমিশনের পক্ষ থেকে সওয়াল করা হয় যে প্রতীক কোনো ব্যক্তিগত বা স্থায়ী সম্পত্তি নয় এবং এ ক্ষেত্রে সংবিধানের নির্দিষ্ট ধারা প্রযুক্ত। পাশাপাশি আইনি অধিকার না থাকলে প্রতীক আটকে রাখার কোনো অবকাশ নেই বলেও দাবি করা হয়। তবে আদালতের পালটা যুক্তি ছিল, দুটি পৃথক শিবির থেকে একই প্রতীকের জন্য আবেদন জমা পড়ার পর কমিশন কেন তা প্রত্যাখ্যান করল, তার সপক্ষে সুনির্দিষ্ট কারণ দর্শানো বাধ্যতামূলক। আইনের ধারা বা বিধির কোন সুনির্দিষ্ট নিয়মের ওপর ভিত্তি করে এই প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে, তা আগামী দিনে আদালতের কাছে স্পষ্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।