কৃষিকাজের পাশে ‘পরব নাচে’ জীবন্ত ঐতিহ্য! আদিবাসী সংস্কৃতি সংরক্ষণে সরকারি সহায়তায় খুশিতে উদ্বেল জামবনি গ্রাম

পশ্চিমবঙ্গের শালবনী ও কেশপুরের সীমান্তবর্তী জঙ্গলঘেরা জনপদ জামবনি গ্রাম। এটি একটি আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রাম, যেখানে প্রায় প্রতিটি পরিবারই চাষবাসের সঙ্গে যুক্ত। প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে সহজ-সরল জীবনযাপন করা এই পরিশ্রমী মানুষদের জীবিকা যেমন কৃষিকাজ, তেমনই তাঁদের প্রাণের আনন্দের উৎস হল প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা ঐতিহ্যবাহী আদিবাসী নৃত্য ‘পরব নাচ’।
দিনভর মাঠে কাজ শেষ করে সন্ধ্যা নামলেই ঢোল, মাদল আর করতালের তালে তালে শুরু হয় এই নাচের উৎসব। এই নাচ তাঁদের কাছে কেবল বিনোদন নয়, বরং সমাজের ঐক্য ও সংস্কৃতির প্রতীক।
সরকারি সহায়তায় খুশি:
সম্প্রতি রাজ্য সরকারের তরফে জামবনির আদিবাসী পরিবারগুলিকে আর্থিক সহায়তা হিসেবে প্রতি পরিবারে ১,০০০ টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। এই অপ্রত্যাশিত সহায়তা পেয়ে গ্রামের মানুষজন খুশিতে উদ্বেল।
স্থানীয় এক কৃষক জানান, এই সাহায্য তাঁদের জন্য খুবই উপকারি। এতে বীজ, সার বা চাষের প্রয়োজনীয় জিনিস কেনায় সুবিধা হবে। তিনি বলেন, “আমরা চাষ করে সংসার চালাই। সরকারের এই সাহায্য আমাদের জন্য খুব উপকারি।”
‘পরব নাচ’ সংরক্ষণে আবেদন:
এই আর্থিক সহায়তা পেয়ে খুশি হলেও গ্রামের মানুষরা তাঁদের ঐতিহ্যবাহী নাচ ‘পরব’-এর সংরক্ষণে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, “আমরা পরব নাচ করি, এই নাচ আমাদের ঐতিহ্য। সরকার যদি এই নাচের আয়োজনেও কিছু সাহায্য করে, তাহলে আমরা আরও উৎসাহ পাব।”
এই সহায়তা কর্মসূচির ফলে গ্রামের মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তাঁদের মতে, এই ধরনের ছোট ছোট উদ্যোগ তাঁদের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে। এক সময় যে ‘পরব নাচ’ ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছিল, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও গ্রামের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় তা আবার তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আগ্রহ ফিরিয়ে এনেছে। জামবনি গ্রাম কৃষি-নির্ভর জীবন ও ঐতিহ্যবাহী নাচের মেলবন্ধনে এক নবজাগরণের পথে এগিয়ে চলেছে।