“অন্যের ওপর জোর করে কিছু চাপায়নি ভারত!” বিশ্ব শান্তির পথ দেখাতে ভারতীয় সংস্কৃতির জয়গান গাইলেন আরএসএস প্রধান

অখিল ভারতীয় বিহার সেবা গ্রুপের ১৪তম সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে বলেছেন যে, ভারতে ধর্ম ও রাষ্ট্র কখনো আলাদা নয়। বিশ্বের বর্তমান সময়ের বিভিন্ন জটিল সংকট ও বৈপরীত্য তুলে ধরে তিনি জানান যে, উন্নয়ন বনাম পরিবেশ রক্ষা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বনাম পারিবারিক মূল্যবোধ এবং ধর্মীয় অনাস্থা ও সংঘাতের মতো বিষয়গুলো আজ বিশ্বকে গ্রাস করেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ক্রমবর্ধমান উন্নয়নের প্রভাবে যেমন পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনই ব্যক্তিগত স্বাধীনতার নামে সমাজ ও পারিবারিক কাঠামো ভেঙে পড়ছে।

ভারত সবসময়ই অহিংসার পথে হেঁটেছে উল্লেখ করে ভাগবত বলেন, গত প্রায় ৩,০০০ বছর ধরে ভারত অন্য দেশ দখল না করে কিংবা জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত না করে কেবল নিজের জ্ঞান ও শান্তির বার্তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছে। বেদ, উপনিষদ, রামায়ণ, মহাভারত, গীতা, জৈন আগম, ত্রিপিটক এবং শ্রী গুরু গ্রন্থ সাহিবের মতো সুবিশাল জ্ঞান-ভাণ্ডারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, আজকের অশান্ত পৃথিবীর মুখোমুখি হওয়া চ্যালেঞ্জগুলির একমাত্র দিশারি হতে পারে ভারতের এই ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান।

আরএসএস প্রধান দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেন, “আমাদের রাষ্ট্র ও ধর্ম আলাদা নয়। রাষ্ট্রের উদ্দেশ্যই হলো ধর্ম এবং ধর্মই রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে।” তিনি আরও জানান যে, ভারতীয় দর্শন কেবল নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণীর স্বার্থ দেখে না, বরং গোটা বিশ্ববাসীর সার্বিক কল্যাণের কথা ভাবে। তাঁর মতে, সমাজের কিছু মানুষও যদি কষ্ট পায়, তবে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর আনন্দ বা তথাকথিত “সর্বোচ্চ কল্যাণ”-এর তত্ত্বও অর্থহীন হয়ে পড়ে। জৈন আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন যে, এই প্রয়াস কেবল একটি সম্প্রদায়ের নয়, বরং গোটা মানবজাতির নিরাপদ ভবিষ্যৎ রক্ষা করছে।