কাঁথিতে ট্রলার থেকে পড়ে নিখোঁজ মৎস্যজীবী! পেটুয়াঘাট মৎস্যবন্দরে মর্মান্তিক ঘটনা, ফিরে এল শুধু একটি গামছা আর সামান্য টাকা

মাছ ধরতে বেরিয়ে ট্রলার থেকে পড়ে নিখোঁজ হয়ে গেলেন এক মৎস্যজীবী। নিখোঁজ এই মর্মান্তিক ঘটনায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথি দু’নম্বর ব্লকের কালিকাপুর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিখোঁজ মৎস্যজীবীর নাম সেক মনসুর (৩৫)। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ১১টা নাগাদ পেটুয়াঘাট মৎস্যবন্দরে এই ঘটনাটি ঘটে।
কী ঘটেছিল মঙ্গলবার সকালে?
পরিবারের দাবি, মঙ্গলবার সকালে সেক মনসুরকে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে তাঁর সহকর্মীরা ট্রলারে ডেকে নিয়ে যান। পেটুয়াঘাট মৎস্যবন্দরে ট্রলার নিয়ে রওনা হওয়ার কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই আচমকা মনসুর ট্রলার থেকে পড়ে গিয়েছেন বলে খবর আসে।
দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পরও মনসুরের কোনো সন্ধান না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন বাকি ট্রলার কর্মীরা। খবর পেয়ে মনসুরের পরিবার ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। তাঁর ছেলে নদীতে নেমে বাবার খোঁজে তল্লাশি চালালেও কোনো ফল মেলেনি।
ফিরে এল শুধু গামছা
তল্লাশির সময় মনসুরের সঙ্গে থাকা একটি কালো রঙের গামছা পাওয়া যায়, যার মধ্যে সামান্য কিছু টাকা ছিল। এই গামছাটিই এখন নিখোঁজ মৎস্যজীবীর একমাত্র স্মৃতি হয়ে রয়েছে পরিবারের কাছে।
মনসুরের স্ত্রী কান্নার সুরে বলেন, “আমার স্বামীকে সেদিন বাড়ি থেকে ডেকে কাজে নিয়ে গিয়েছিল এক মৎস্যজীবী। কখনও ভাবিনি এভাবে আর ফিরবে না। ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের মুখের দিকে তাকাতে পারছি না। উনি যেন ফিরে আসেন।”
পুলিশের তল্লাশি শুরু
অনেক খোঁজাখুঁজির পর পরিবার জুনপুট কোস্টাল থানায় নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। স্থানীয় মৎস্যজীবীদের সহায়তায় নদীতে অনুসন্ধান চলছে।
জুনপুট কোস্টাল থানার ওসি জানিয়েছেন, “আমরা অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তল্লাশি শুরু করেছি। এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ মৎস্যজীবীর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।” একদিন পার হয়ে গেলেও মনসুরের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় এলাকায় অনিশ্চয়তা ও শোক আরও বাড়ছে।