কলকাতার বাতাসে মিশল বিষ! কালীপুজোর আগেই ধোঁয়াশায় ঢেকে গেল বাংলা, এবার কি দিল্লির পরিণতি?

জাতীয় রাজধানী দিল্লির বায়ুমানের ভয়াবহ অবনতি নিয়ে ইতিমধ্যেই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের শীর্ষ আদালত সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু সেই একই বিষাক্ত ধোঁয়াশার কালো ছায়া কি এবার নামতে চলেছে বাংলাতেও? কালীপুজোর আগের রাত থেকেই কলকাতা, হাওড়া এবং পার্শ্ববর্তী একাধিক এলাকায় বায়ুদূষণের মাত্রা অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। বাজির ধোঁয়া ও ক্ষতিকর রাসায়নিক বাতাসে মিশে পরিস্থিতি এমন এক জায়গায় দাঁড়িয়েছে যে দূষণের মানচিত্রে দেখা যাচ্ছে বিপজ্জনক ‘লাল’ দাগ।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উৎসবের দু’দিন আগে থেকেই কলকাতার বাতাসে দূষণের মাত্রা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। শুক্রবার রাত থেকেই হাওড়া, যাদবপুর ও সল্টলেকের বাতাসে বিপজ্জনক মাত্রায় বিষাক্ত কণা জমতে শুরু করেছিল, যা শনিবার রাতে আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। পরিবেশ দপ্তর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে হাওড়ার ঘুসুরিতে PM 2.5-এর সর্বোচ্চ মাত্রা পৌঁছে যায় ৩৫০-এ। এছাড়া সল্টলেকে ৩৩৬, যাদবপুরে ৩২৬, বালিগঞ্জে ৩২১ এবং বেলুড়ে ৩১৩ ছুঁয়েছে বায়ুদূষণের পারদ। আগের দিন অর্থাৎ শুক্রবার রাতেও ঘুসুরিতে এই মাত্রা ৩৯৭ পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল।

উল্লেখ্য, কালীপুজোয় বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে ইতিমধ্যেই কড়া নিয়ম জারি করা হয়েছে। নির্দিষ্ট করে রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বাজি ফাটানোর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তবে কালীপুজোর মূল রাতের আগেই বাতাসের এই কালান্তক রূপ চিন্তায় ফেলেছে পরিবেশবিদদের। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়লে ঘন ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়ে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা।