‘তৃণমূলের সঙ্গে যাওয়ার চেয়ে বিষ খেয়ে মরা ভালো!’ মমতার সাথে সিপিএমের সখ্যতায় বিস্ফোরক বাম নেতা

দিল্লির রাজপথে যেখানে একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে সংবাদ শিরোনাম তৈরি করছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সিপিএমের সর্বভারতীয় সম্পাদক এম এ বেবি, ঠিক তখনই এই ‘রাম-বাম-তৃণমূল’ রসায়ন নিয়ে বঙ্গ রাজনীতিতে আছড়ে পড়ল চরম ক্ষোভের ঢেউ। বাংলায় দীর্ঘ ৩৪ বছরের লাল দুর্গ ভেঙে ক্ষমতায় এসেছিলেন মমতা। তবে বর্তমানে কেন্দ্র বিরোধী রাজনীতির মঞ্চে কিংবা সর্বভারতীয় স্তরে অন্য বিরোধী শক্তির সঙ্গে সিপিএম ও তৃণমূলের এই কাছাকাছি আসা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না রাজ্য বামফ্রন্টের শরিক নেতারা।
রাজনীতির এই দোলাচলের মাঝে মালদহে বামেদের দৈন্যদশা স্পষ্ট। একসময়ের গমগম করা সিপিএমের জেলা কার্যালয় এখন কার্যত খাঁ খাঁ করছে, জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর ঘরে ঝুলছে তালা। আর এমন আবাহেই চরম বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন বাম শরিকদল আরএসপি-র মালদহ জেলা সম্পাদক সর্বানন্দ পান্ডে। সাফ জানিয়ে দিলেন, তৃণমূলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে একমঞ্চে হাঁটার থেকে মৃত্যুবরণ করাও অনেক ভালো।
বামফ্রন্টের বর্তমান ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে সর্বানন্দবাবু সরাসরি সিপিএম নেতৃত্বকেই কাঠগড়ায় তোলেন। তাঁর অভিযোগ, ফ্রন্টের চার শরিক দলের একসঙ্গে চলা অত্যন্ত জরুরি হলেও বাস্তব ক্ষেত্রে তা ঘটছে না। তিনি স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দেন, বাংলায় শাসকদল তৃণমূলের সঙ্গে কোনো সমঝোতা বা একজোটে আন্দোলনের প্রশ্নই ওঠে না।
তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে তৃণমূল স্তরে বাম কর্মী-সমর্থকদের ওপর অমানুষিক অত্যাচার চালানো হয়েছে। হামলা হয়েছে, পার্টি অফিস দখল হয়েছে, আজ পর্যন্ত হাজার হাজার মিথ্যা মামলা চলছে। সেই তৃণমূলের সাথে এক ছাতার তলায় হাঁটার কোনো যুক্তি নেই।” এরপরই তাঁর হুঙ্কার, “দল যদি আমাকে কাল তৃণমূলের সঙ্গে যৌথ মিছিলে হাঁটতে বলে, আমি বলব ওই বিষ খেয়ে হজম করা আমার পক্ষে অসম্ভব, তার চেয়ে মৃত্যু অনেক শ্রেয়।”