এ কী কাণ্ড! খোদ স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটরকে লক্ষ্য করে হুমকি ফোন! দেবরাজ ঘনিষ্ঠদের দাপটে কি কেঁপে উঠবে প্রশাসন?

রাজ্যের বিশেষ সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়কে সরাসরি হুমকি ফোন দেওয়ার ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিধাননগরের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর ও প্রভাবশালী নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে চলা একটি চাঞ্চল্যকর তোলাবাজি মামলার শুনানিতে সরকার পক্ষের বিশেষ সরকারি আইনজীবী হিসাবে সওয়াল করছেন বিভাসবাবু। অভিযোগ উঠেছে, দেবরাজের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের এক অনুগামী তাঁকে রীতিমতো হুমকি দিয়ে মামলার বিষয়ে সমঝোতা করার প্রস্তাব দিয়েছেন। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই বাগুইআটি থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে জানান, গত ৬ সেপ্টেম্বর সকালে তিনি যখন নিজের চেম্বারে ছিলেন, তখন তাঁর ফোনে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল আসে। ট্রু-কলার অ্যাপে সেই নম্বরটিতে ‘রাজু হাসান, এবি সাপোর্টার স্টেট কমিটির জেনারেল সেক্রেটারি’ নামটি ভেসে ওঠে। অভিযোগকারী ওই ব্যক্তি ফোনের ওপার থেকে অত্যন্ত হুমকির সুরে দাবি করেন যে, ‘দাদার মামলা নিয়ে আমার সঙ্গে বসতে হবে।’ ‘দাদা’ বলতে এখানে কারাবন্দি নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। শুধু হুমকি দেওয়াই নয়, পরোক্ষে মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়ার প্রস্তাবও রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এই কথোপকথনের নির্দিষ্ট ফোন নম্বরটি উল্লেখ করেই বাগুইআটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আইনজীবী।

উল্লেখ্য, বিধাননগরে সিন্ডিকেট রাজ চালানো, প্রমোটারদের কাছ থেকে জোর করে ব্যাপক তোলাবাজি করা এবং বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি জমানোর গুরুতর অভিযোগে গত ১ জুলাই রাজ্য পুলিশের এসটিএফ দল পুরুলিয়া থেকে দেবরাজ চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করেছিল। বারাসাত আদালতে সেই মামলারই স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিভাস চট্টোপাধ্যায়। এদিকে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিজেপি বিধায়ক তথা আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি এই প্রসঙ্গে অত্যন্ত বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন যে, দেবরাজের ঘনিষ্ঠরা এখনও এলাকায় যথেষ্ট সক্রিয় রয়েছে এবং জেলবন্দি থাকার সত্ত্বেও তিনি কারাগারের ভেতর থেকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন বলে তাঁর কাছে গোপন খবর রয়েছে। প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।