বিএসএফের গাড়ি ভাঙচুর করে সার্ভিস রাইফেল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা! ত্রিপুরার সিপাহীজলায় চাঞ্চল্যকর হামলার নেপথ্যে কে?

ত্রিপুরার সিপাহীজলা জেলার আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী আশাবাড়ি এলাকায় বিএসএফ (BSF) জওয়ানদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের পেট্রোলিং দলের ওপর অতর্কিত হামলা, সরকারি গাড়ি ভাঙচুর এবং জওয়ানদের অস্ত্র বা সার্ভিস রাইফেল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কড়া পদক্ষেপ করেছে ত্রিপুরা পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার প্রত্যক্ষ ও কঠোর নির্দেশের পরেই বিশালগড় সহ বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে পুলিশ ইতিমধ্যেই একাধিক মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে।
ঠিক কী ঘটেছিল আশাবাড়ি সীমান্তে? পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিপাহীজলা জেলার কলমচৌরা থানার অন্তর্গত আন্তর্জাতিক ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন আশাবাড়ি বর্ডার আউটপোস্টের কাছে এক সন্দেহভাজন চোরাকারবারিকে আটক করে বিএসএফ। ওই সময় সীমান্ত পেরিয়ে কিছু দুষ্কৃতী কাঁটাতার টপকে চম্পট দিলেও, ধৃত এক ভারতীয় পাচারকারী কৌশলে পালিয়ে গিয়ে স্থানীয় গ্রামবাসীদের ভুল বুঝিয়ে উসকানি দেয় বলে অভিযোগ।
অভিযোগ ওঠে, নিরাপত্তারক্ষীদের বিরুদ্ধে মারধরের মিথ্যা প্ররোচনা ছড়িয়ে একদল উত্তেজিত মানুষকে জড়ো করা হয়। এরপর অতর্কিতভাবে বিএসএফের ওপর চড়াও হয় উন্মত্ত জনতা। হামলাকারীদের ইঁট-পাথরের আঘাতে তিন জন বিএসএফ জওয়ান গুরুতর জখম হন। শুধু তা-ই নয়, নিরাপত্তারক্ষীদের একটি সরকারি গাড়িও ব্যাপকভাবে ভাঙচুর করা হয় এবং জওয়ানদের সার্ভিস রাইফেল ছিনিয়ে নেওয়ার মতো दुসাহসিক অপচেষ্টা চালানো হয়। আহত জওয়ানদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে বক্সনগর হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হওয়ায় আগরতলার ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতি ও পুলিশের মেগা অ্যাকশন: এই ন্যক্কারজনক ঘটনার খবর পাওয়ার পরই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। দেশের সুরক্ষায় নিয়োজিত জওয়ানদের ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না জানিয়ে তিনি পুলিশ প্রশাসনকে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরই নড়েচড়ে বসে জেলা পুলিশ। সিপাহীজলার পুলিশ সুপার বিজয় দেববর্মা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় মোট ১৯ জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। ঝটিকা অভিযান চালিয়ে পুলিশ ইতিমধ্যেই ৮ থেকে ৯ জন মূল অভিযুক্তকে পাকড়াও করেছে। বাকিদের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সংবেদনশীল এই সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং জাতীয় নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটানো দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।