এন্ডোস্কোপিক ক্যামেরায় খাস কলেজের ক্লাসরুমেই ফাঁস প্রশ্নপত্র! ছত্তিশগড়ের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় গ্রেপ্তার অধ্যাপকসহ ৬!

ছত্তিশগড়ের দুর্গে এক অবিশ্বাস্য ও অভিনব কায়দায় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ইন্দিরা গান্ধী কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকের দ্বিতীয় বর্ষের এন্টোমোলজি বা কীটতত্ত্ব পরীক্ষার প্রশ্নপত্র একবারে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে চরম সুরক্ষার বেড়াজাল ভেঙে ফাঁস করা হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর অপরাধের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত থাকার অভিযোগে এক কলেজ অধ্যাপকসহ মোট ছ’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত বর্তমানে জোরকদমে চলছে।

পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী, ধৃত ওই অধ্যাপকের নাম যোগেশ সঙ্কেসারিয়া। তিনি দুর্গের ভারতী এগ্রিকালচার কলেজে শিক্ষকতা করেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি নিজের পদের অপব্যবহার করে পরীক্ষার নির্দিষ্ট সিল করা বা মুখবন্ধ খামটি অত্যন্ত সুকৌশলে খোলেন। এরপর একটি মিনি এন্ডোস্কোপিক ক্যামেরার সাহায্য নিয়ে তিনি অত্যন্ত গোপনে প্রশ্নপত্রের পরিষ্কার ছবি তুলে নেন। এই ফাঁস হওয়া গোপন প্রশ্নপত্রের ছবি পরবর্তীতে মাত্র ১১ হাজার টাকার বিনিময়ে অজয় নায়েক ও অন্য দুই ছাত্রের কাছে বিক্রি করা হয়। এরপর সেই ছবি সমাজমাধ্যম এবং হোয়াটসঅ্যাপের সুরক্ষিত চ্যাটের মাধ্যমে অন্যান্য পরীক্ষার্থীদের কাছেও ছড়িয়ে পড়ে।

নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী গত ২০ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ওই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরীক্ষার ঠিক আগে, অর্থাৎ সকাল পৌনে ন’টা নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক প্রশাসনিক শাখায় ইমেল ও হোয়াটসঅ্যাপ মারফত প্রশ্নপত্র ফাঁসের অকাট্য প্রমাণসহ এক সতর্কবার্তা এসে পৌঁছয়। পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করায় এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়ে তৎক্ষণাৎ ওই পরীক্ষা বাতিল করে দেন।

এদিকে, এই চাঞ্চল্যকর প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীদের খুঁজে বের করে পুলিশ বড় সাফল্য অর্জন করেছে। দুর্গের ক্রাইম ও সাইবার সেলের ডেপুটি কমিশনার স্মৃতিক রাজনালা সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, ঘটনার তীব্র তদন্তের পর অধ্যাপক যোগেশ সঙ্কেসারিয়া এবং পাঁচ ছাত্র— অজয় নায়েক, ত্রিদেব প্যাটেল, নীতিন পান্ডে, অনুজ মিনজ ও আদিত্য সাহুকে পুলিশ পাকড়াও করেছে।

ধৃতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ছত্তিশগড় পাবলিক পরীক্ষা সংক্রান্ত ২০০৮ সালের কঠোর আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা BNS-এর ৩১৬ ধারা অনুযায়ী অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে। এই রমরমা প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে নেপথ্যে অন্য কোনো বড় মাথা বা কোনো চক্র জড়িত রয়েছে কি না এবং এই ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র আর কোথায় কোথায় ছড়িয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে বর্তমানে পুলিশি তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।