এক পলকে শেষ এক পরিবার! ভাগলপুরে জলের অতলে তলিয়ে গেল মা ও তিন সন্তান সহ ৫ জন।

বিহারের ভাগলপুর জেলায় বন্যা পরিস্থিতির জেরে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। বাইপাস থানার কোয়লি খুটহা গ্রামে রাস্তার ওপর জমে থাকা গভীর জলের তোড়ে তলিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন সদস্য রয়েছে। এই আকস্মিক ট্র্যাজেডিতে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন?

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে কোয়লি খুটহা গ্রামের চারপাশেই বন্যা ও বৃষ্টির জল জমে রয়েছে। ওই পরিবারের সদস্যরা যখন খেতের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন রাস্তার ওপর প্রচুর পরিমাণে জল জমে ছিল। জলের গভীরতা কতটা, তা সঠিকভাবে অনুমান করতে না পেরে এক ব্যক্তি প্রথমে পা পিছলে বা গভীর জলে ডুবে যেতে শুরু করেন। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যরাও একে অপরকে ধরতে যান এবং দেখতে দেখতে সবাই জলের অতলে তলিয়ে যান।

হাসপাতালে নিয়ে গেলেও বাঁচানো গেল না

ঘটনার পরই স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ছুটে এসে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। জল থেকে কোনোমতে ওই ব্যক্তিদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য মায়াগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালের চিকিৎসকরা পরীক্ষা করার পর পাঁচজনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মনছো দেবী, তাঁর দুই কন্যা সোনাক্ষী কুমারী ও অংশু প্রিয়া, পুত্র প্রিন্স কুমার এবং গ্রামেরই অন্য এক শিশু অভিষেক কুমার। একই পরিবারের চার সদস্যসহ পাঁচজনের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে কান্নার রোল পড়ে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ও হাসপাতালে পৌঁছে মৃতদেহগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করেছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এদিকে বন্যার সময়ে জলমগ্ন রাস্তাগুলোতে পর্যাপ্ত সতর্কতা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।