এক ধাক্কায় আকাশছোঁয়া পেঁয়াজের দাম! সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়তে না দিতে আসরে কেন্দ্র

চিনির দামের ছ্যাঁকার পর এবার সাধারণ মানুষের চোখ দিয়ে জল আনার জোগাড় করেছে পেঁয়াজের ঝাঁঝ (Onion Price)। দেশজুড়ে হু হু করে বাড়ছে সবঞ্চির রাজা পেঁয়াজের দাম। গত কয়েক দিনে প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে এর দর। উৎসবের মরশুমের আগে এই লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি রুখতে এবং বাজারে জোগান স্বাভাবিক রাখতে এবার অত্যন্ত জরুরি ও বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার।

পেঁয়াজের জোগান সচল রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘কান্দা এক্সপ্রেস’। দেশের পেঁয়াজের প্রধান হাব বা রাজধানী হিসেবে পরিচিত নাসিক থেকে এই বিশেষ ট্রেনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দ্রুত পেঁয়াজ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কনজিউমার অ্যাফেয়ার্স সেক্রেটারি নিধি খারে জানিয়েছেন যে চেন্নাই, মাদুরাই, দিল্লি, এর্নাকুলাম ও গুয়াহাটির মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতে এই পেঁয়াজ দ্রুত সরবরাহ করা হচ্ছে এবং পরবর্তীতে এই তালিকায় আরও নতুন শহর যুক্ত করা হবে।

যোগান ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে চলতি বছরে পেঁয়াজের দামে এই উল্লম্ফন দেখা গেছে। গত বছর অগস্ট মাসের শেষভাগে যেখানে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ছিল ২৭ টাকা ৩৭ পয়সা, এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৩ টাকা ৫৩ পয়সায়। দেশের বিভিন্ন মেট্রো শহরেও দামের ছবিটা বেশ উদ্বেগজনক। দিল্লিতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়, চেন্নাইতে দাম পৌঁছেছে ৬০ টাকায় এবং কলকাতায় তা বর্তমানে ৫৩ টাকা প্রতি কেজি। পাইকারি বাজারেও দাম প্রায় ৬৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় সরকার এবার আগের তুলনায় অনেক বড় পরিসরে পদক্ষেপ নিয়েছে। গত বছর যেখানে ১৪টি রেলওয়ে রেকে করে মাত্র ১২ হাজার টন পেঁয়াজ পাঠানো হয়েছিল, সেখানে চলতি বছর ৮৬টি রেকে প্রায় ৮৮ হাজার টন পেঁয়াজ দেশের ১৬টি বড় শহরে পাঠানো হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে দেশে পর্যাপ্ত বাফার স্টক মজুদ রয়েছে এবং জোগানে কোনো ঘাটতি হবে না। প্রতি বছরই এই সময়ে মৌসুমী পরিবর্তন ও উৎসবের চাহিদার কারণে সাময়িকভাবে দাম কিছুটা বাড়ে। তবে নতুন স্টক বাজারে এসে পৌঁছালেই পেঁয়াজের দাম দ্রুত নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলে আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।