এক জীবনে একাধিক বিয়ে? জন্মছকের এই গোপন চিহ্নগুলিই কি বদলে দেয় দাম্পত্যের ভাগ্য!

এক জীবনে দু’বার বিয়ে—কারো কাছে এটি নিখাদ ভাগ্যের লিখন, আবার কারো কাছে জীবনের চরম ভাঙাগড়ার এক কঠিন পরিণতি। তবে বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্র এবং ঐতিহ্যবাহী বাস্তুশাস্ত্রের মতে, কোনো ব্যক্তির জীবনে একাধিক বিবাহের সম্ভাবনা তৈরি হয় প্রধানত কিছু বিশেষ গ্রহের অবস্থান এবং পারিবারিক পরিবেশগত পার্থক্যের কারণে। তবে সত্যিই কি জন্মছক বা গ্রহ-নক্ষত্র মানুষের দাম্পত্যের ভবিষ্যৎ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে? নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো বাস্তবতা?
প্রচলিত বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে কোষ্ঠী বা জন্মছকের সপ্তম ঘরকে (Seventh House) বিবাহ এবং দাম্পত্য জীবনের প্রধান ঘর হিসেবে গণ্য করা হয়। জ্যোতিষীদের মতে, এই সপ্তম ঘর, সপ্তম ঘরের অধিপতি গ্রহ এবং সৌন্দর্যের প্রতীক শুক্রের অবস্থান গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে বিবাহিত জীবনের সুখ-শান্তি বিচার করা হয়। জন্মছকের সপ্তম ঘরে যদি কোনো অশুভ বা পাপ গ্রহের প্রভাব থাকে, কিংবা সপ্তম অধিপতির অবস্থান দুর্বল হয়, তবে দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে মারাত্মক টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। এর পাশাপাশি রাহু ও কেতুর বিশেষ যোগ এবং নবমাংশ ছকের জটিলতাও সম্পর্কের চিড় ধরার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে কোনো একটি নির্দিষ্ট গ্রহের দুর্বল অবস্থান দেখেই নিশ্চিতভাবে দ্বিতীয় বিয়ের সিদ্ধান্ত টানা একদমই উচিত নয়।
জ্যোতিষশাস্ত্রের বিভিন্ন ধারায় দ্বিতীয় বিয়ের যোগ বিচারের ক্ষেত্রে কিছু মতভেদও বিদ্যমান। অনেক জ্যোতিষী দ্বিতীয় বিয়ের সম্ভাবনার জন্য জন্মছকের নবম ঘর এবং দ্বিতীয় ঘরকেও অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে থাকেন। তাই অভিজ্ঞ জ্যোতিষীদের মতে, পুরো জন্মছক, গ্রহের মহাদশা-অন্তর্দশা এবং সমস্ত অবস্থান সামগ্রিকভাবে বিচার করাই যুক্তিসঙ্গত। অন্যদিকে, বাস্তুশাস্ত্রেও দাম্পত্য জীবনের মধুরতা বজায় রাখতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়া রয়েছে। যেমন—বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে মাস্টার বেডরুম রাখা এবং শোয়ার ঘর সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুবিন্যস্ত রাখা শুভ বলে মনে করা হয়।
যদিও সমাজ এবং জ্যোতিষচর্চায় এই বিষয়গুলি ব্যাপকভাবে আলোচিত, তবুও কেবল জ্যোতিষ বা বাস্তুর ওপর ভিত্তি করে কারো জীবনে ঠিক কতবার বিয়ে হবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা অসম্ভব। এমনকি আধুনিক বিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানও এই বিষয়টিকে কেবল ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিতে নারাজ। উদাহরণস্বরূপ, সুইডেনে প্রায় ৬৫ হাজারেরও বেশি বিবাহিত দম্পতির ওপর পরিচালিত একটি সুবিশাল বৈজ্ঞানিক গবেষণায় জ্যোতিষভিত্তিক সামঞ্জস্যের সাথে বিচ্ছেদ বা দ্বিতীয় বিবাহের কোনো নির্ভরযোগ্য গাণিতিক প্রমাণ বা সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। পরিশেষে বলা যায়, জীবনের যেকোনো সম্পর্কের স্থায়ীত্ব ও ভবিষ্যৎ মূলত দুজন মানুষের পারস্পরিক বোঝাপড়া, বিশ্বাস, সহানুভূতি এবং সম্মানের ওপরই সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল।