একদিনেই ধূলিসাৎ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার! ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পরই আমেরিকার বাজারে এই ভয়াবহ বিপর্যয় কেন?

মার্কিন মুলুকের মিডটার্ম নির্বাচনের ফলাফলের রেশ কাটতে না কাটতেই বিশ্ব শেয়ার বাজারে এক অভূতপূর্ব ও নাটকীয় পটপরিবর্তন দেখা গেল। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর শুরুতে ওয়াল স্ট্রিটে খুশির হাওয়া বইলেও, তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ছবিটা সম্পূর্ণ বদলে যায়। ১৯ মাসের মধ্যে মার্কিন শেয়ার বাজারে অন্যতম বৃহৎ ধস নামায় বিনিয়োগকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ চওড়া হয়েছে।
গত বুধবার সেনসেক্স ৩৮৩.৫৫ পয়েন্ট বেড়ে ৭৭,৩০১.৪০ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছিল এবং বৃহস্পতিবার বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সেনসেক্স ১,৫১৯ পয়েন্ট বা ১.৯৭ শতাংশ লাফিয়ে ৭৮,৮২০.৪০ পয়েন্টে পৌঁছয়। একইভাবে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের নিফটি ৫০ বেড়ে ২৪,৩৯৭.৩০ পয়েন্টে লেনদেন করছিল। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, মার্কিন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্য এবং কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে যাওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা কিছুটা কমবে—এমন আশাতেই বাজার সাময়িকভাবে চাঙ্গা হয়েছিল।
কিন্তু শুক্রবার সকালের চিত্রটি ছিল একেবারেই উল্টো। ১৯ মাসের মধ্যে মার্কিন শেয়ার বাজারে সবচেয়ে বড় পতন নথিভুক্ত হয়েছে। এর জেরে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে নাসডাক কম্পোজিট ও এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক। এই আচমকা ধসের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে আসছে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) খাতের শেয়ারগুলোর অতিরিক্ত দর বৃদ্ধি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মনে তৈরি হওয়া সংশয়। রাতারাতি সেমিকন্ডাক্টর এবং এআই-সংশ্লিষ্ট শেয়ারগুলিতে প্রবল বিক্রির চাপ শুরু হয়।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৫ নভেম্বর নাসডাক কম্পোজিট ৫.৫২ শতাংশ পতন দেখেছে, যা গত ১৯ মাসের মধ্যে একদিনে সর্বাধিক। একই দিনে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ৪.৩৬ শতাংশ এবং ডাউ জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ ৩.৪৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এই তিনটি প্রধান সূচকই এপ্রিল ২০২৫-এর পর থেকে সবচেয়ে বড় দৈনিক পতনের মুখোমুখি হয়েছে। অন্যদিকে, নাসডাক ১০০ সূচকটি এক ধাক্কায় ৬.৩৬ শতাংশ কমেছে, যা ২০২০ সালে মহামারী পরবর্তী সময়ের ধসের পর মার্কিন মুলুকে সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষতি। চিপ নির্মাতারা এই পতনের জেরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যার মধ্যে অ্যাডভান্সড মাইক্রো ডিভাইসেস (AMD)-এর শেয়ার দর ১৭.৩ শতাংশ, মাইক্রন টেকনোলজির দর ১৭.৫ শতাংশ এবং এনভিডিয়া (Nvidia)-র দর ৯.৩ শতাংশ পর্যন্ত নেমে গিয়েছে।
প্রযুক্তি খাতে এই গভীর উদ্বেগের অন্যতম প্রধান কারণ হলো, ডেমোক্র্যাটিক দলের বেশ কয়েকজন প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারের সময় এআই ডেটা সেন্টারের দ্রুত সম্প্রসারণের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁরা বিদ্যুৎ ও জল ব্যবহার, পরিবেশগত প্রভাব এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের ওপর ক্রমবর্ধমান আর্থিক খরচের বোঝা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছিলেন। নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণে এই কঠোর নীতিগুলিই এখন প্রযুক্তি জগতের বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বেশি ভাবিয়ে তুলছে।