উৎসবের আনন্দ নিমেষেই হতে পারত ছাই! বড়বাজার কাণ্ডে বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল করল কলকাতা পুলিশ!

দীপাবলির আনন্দমুখর প্রাক্কালে কলকাতার বুকে ফের এক বিরাট বড়সড় বেআইনি বাজি উদ্ধারের ঘটনা ঘটল। গোপন সূত্রে প্রাপ্ত পাকাপোক্ত খবরের ভিত্তিতে বুধবার গভীর রাতে কলকাতার ব্যস্ততম বড়বাজার থানা এলাকার একটি পরিত্যক্ত ভবনে হানা দেয় পুলিশ। সেখান থেকেই উদ্ধার হয়েছে প্রায় ১১০ কেজি বিপজ্জনক নিষিদ্ধ ও অবৈধ বাজি। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মহম্মদ তৌফিক (১৯) নামের এক যুবককে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ, যা নিয়ে গোটা শহরজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র শোরগোল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, বুধবার গভীর রাতে আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ বড়বাজার থানার সাব-ইন্সপেক্টর উত্তম কুমার হালদারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল এনএস রোড এলাকায় নিয়মিত টহলদারি ও তল্লাশি চালাচ্ছিল। সেই সময়ই ১ নম্বর এনএস রোড ঠিকানার একটি পরিত্যক্ত ভবনের ভিতর সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে পুলিশ। তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ! দেখা যায়, ৪টি বিশাল আকারের কার্ডবোর্ডের বাক্সে থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে প্রায় ১১০ কেজি ওজনের নিষিদ্ধ বাজি। লোকালয়ের ঠিক মাঝে এভাবে বেআইনিভাবে বাজি মজুত করায় যেকোনো মুহূর্তে এক ভয়ংকর বিস্ফোরণ ও বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, এই বিপুল পরিমাণ বাজি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এবং সরকারের কোনো রকম বৈধ লাইসেন্স বা অনুমতিপত্র ছাড়াই অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এরপর আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সমস্ত বাজি বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকেই অভিযুক্ত মহম্মদ তৌফিককে গ্রেফতার করে সোজা বড়বাজার থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং বিস্ফোরক আইন (Explosive Substances Act)-এর অত্যন্ত কঠোর ধারায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হয়েছে। এই অবৈধ বাজি চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে এবং এর পেছনে কোনো বড় আন্তঃরাজ্য বা পাচারকারী চক্রের হাত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। উৎসবের এই মরশুমে কলকাতার সার্বিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং নাশকতার যেকোনো চেষ্টা রুখতে আগামী দিনে এই ধরনের বিশেষ অভিযান আরও বেশি জোরদার করা হবে বলে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।