স্বামীর দীর্ঘায়ু কামনায় উপবাস অন্য পুরুষের জন্য! জয়পুর আদালতের রায়ে চুরমার ১৩ বছরের দাম্পত্য!

স্বামীর বদলে অন্য এক পরকীয়া প্রেমিকের দীর্ঘায়ু কামনায় করওয়া চৌথ (Karwa Chauth) পালনের মতো নজিরবিহীন ঘটনাকে দাম্পত্যে চরম বিশ্বাসঘাতকতা ও মানসিক নিষ্ঠুরতা (Mental cruelty) হিসেবে চিহ্নিত করল রাজস্থানের জয়পুর পারিবারিক আদালত। দীর্ঘ ১৩ বছরের বিবাহিত সম্পর্কে ইতি টেনে অবশেষে স্বামীকে আইনিভাবে বিবাহবিচ্ছেদের (Jaipur Family Court divorce case) অনুমতি দিলেন বিচারক বিশাল ভার্গব। এই চাঞ্চল্যকর রায় প্রকাশ্যে আসতেই আইনি ও সামাজিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র শোরগোল।
মামলার বিবরণে প্রকাশ, রাজস্থানের জয়পুরের এক বাসিন্দা ২০২৩ সালের ২৭ জানুয়ারি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন জানান। তাঁর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল, তাঁর স্ত্রী সাধারণ বন্ধুত্বের গণ্ডি ছাড়িয়ে এক পরকীয়া যুবকের সঙ্গে এমন এক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন, যেখানে তাঁকে স্বামীর মর্যাদায় ভূষিত করা হয়েছিল। ২০২১ সালের ২৪ অক্টোবর গোয়াতে বেড়াতে গিয়ে ওই অন্য পুরুষের জন্য রীতিমতো করওয়া চৌথ ব্রত পালন করেছিলেন স্ত্রী, যা সনাতন সংস্কৃতির পরিপন্থী ও স্বামীর প্রতি চরম অবমাননাকর। স্বামীর আরও অভিযোগ ছিল, ২০১৯ সাল থেকে তাঁদের মধ্যে কোনো শারীরিক সম্পর্ক ছিল না। উল্টোদিকে, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, সন্তানের প্রতি চরম অবহেলা এবং মিথ্যা আইনি মামলা ঠুকে তাঁকে প্রতিনিয়ত মানসিকভাবে হেনস্থা করতেন স্ত্রী।
উভয় পক্ষের জমা দেওয়া নথি এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে আদালত এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, স্বামী সত্যিই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং তাঁর ওপর অকথ্য নিষ্ঠুরতা চালানো হয়েছে। আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে, যে সম্পর্কে পারস্পরিক বিশ্বাস, সম্মান এবং মানসিক শান্তি চিরতরে নষ্ট হয়ে গেছে, সেই মৃত সম্পর্ক জোর করে টিকিয়ে রাখার কোনো অর্থ হয় না। এমতাবস্থায়, সমস্ত অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে আদালত ১৩ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটিয়ে স্বামীর বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন মঞ্জুর করেছে।