উসাইন বোল্টকে মাটিতে নামাল চিন! রোবটের অবিশ্বাস্য গতিতে ভেঙে গেল ১৭ বছরের বিশ্বরেকর্ড

বেইজিং অলিম্পিক ট্র্যাকে রচিত হল এক অভাবনীয় ইতিহাস। মানুষের পেশির একচ্ছত্র আধিপত্য গুঁড়িয়ে দিয়ে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে উসাইন বোল্টের সর্বকালের রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিল চিনের মানব সদৃশ রোবট ‘তিয়ানগং আল্ট্রা’। ২০০৯ সালের বার্লিন ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে জ্যামাইকান স্প্রিন্টার উসাইন বোল্টের ৯.৫৮ সেকেন্ডের অমর রেকর্ড এতদিন অক্ষত ছিল। কিন্তু ১৭ বছর পর সেই রেকর্ডকে অতীত করে দিয়ে তিয়ানগং মাত্র ৯.৩৯ সেকেন্ডে দূরত্ব অতিক্রম করে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে।
বেইজিংয়ে আয়োজিত দ্বিতীয় ‘ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমস’-এর উদ্বোধনী দিনে এই রোমাঞ্চকর ঘটনাটি ঘটে। বেইজিং হিউম্যানয়েড রোবট ইনোভেশন সেন্টারের তৈরি এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন রোবটটি শুরু থেকেই চরম প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করে। দৌড়ের শুরুতে স্মার্টফোন প্রস্তুতকারক সংস্থা অনারের রোবট ‘লাইটিং’ সামান্য এগিয়ে থাকলেও, ফিনিশিং লাইনের ঠিক মুখে নিজের পূর্ণ মেকানিক্যাল শক্তি প্রয়োগ করে বাজিমাত করে তিয়ানগং। অনারের ‘লাইটিং’ ৯.৪৭ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে, যা বোল্টের সময়ের চেয়ে কম হলেও তিয়ানগংকে স্পর্শ করতে পারেনি।
তবে গতির লড়াইয়ে জয়ী হলেও রোবট দুটির ফিনিশিং ছিল যথেষ্ট নাটকীয়। রেস শেষ করে ব্রেকিং সিস্টেমের গোলযোগে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিয়ানগং আল্ট্রা সরাসরি সেফটি ম্যাটের ওপর আছড়ে পড়ে, যা দেখে গ্যালারির দর্শকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী ‘লাইটিং’ ফিনিশিং লাইন পেরোনোর পরই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং তাকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যেতে হয়। তা সত্ত্বেও গত বছরের ২১.৫০ সেকেন্ডের টাইমিংয়ের তুলনায় রোবটগুলির এই আকাশছোঁয়া উন্নতি গোটা বিশ্বকে চমকে দিয়েছে।
চিনের এই প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ প্রমাণ করে যে রোবোটিক্স এখন আর নিছক বিনোদন বা প্রদর্শনী নয়, বরং দেশের ভবিষ্যতের অন্যতম এক কৌশলগত শক্তি। বিশ্বজুড়ে এআই ও রোবটিক্সের জয়জয়কার ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। দুবাইয়ের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে কফি পরিবেশন থেকে শুরু করে ঘরের দরজায় পণ্য পৌঁছে দেওয়ার কাজ দক্ষতার সঙ্গে সামলাচ্ছে রোবটরা। খেলার মাঠে মানুষের এই যুগান্তকারী অর্জন অদূর ভবিষ্যতে মানবজাতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্পর্ককে সম্পূর্ণ নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।