উত্তাল এসআরএফটিআই! ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্যাম্পাস লকডাউন, অবিলম্বে হস্টেল খালি করার কড়া নির্দেশ

ছাত্র-প্রশাসন সংঘাত এবং লাগাতার ছাত্র বিক্ষোভের জেরে কার্যত রণক্ষেত্রের রূপ নিয়েছে কলকাতার মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI)। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বা আগামী ১১ই ডিসেম্বর পর্যন্ত সম্পূর্ণ ক্যাম্পাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে পঠনপাঠন সহ সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম স্থগিত করে সকল ছাত্রছাত্রীকে অবিলম্বে হস্টেল খালি করে বাড়ি ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

১. দফায় দফায় সংঘর্ষ ও উত্তাল ক্যাম্পাস

গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিক থেকেই অশান্তির সূত্রপাত হয় এসআরএফটিআই ক্যাম্পাসে। ছাত্র এবং বহিরাগতদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে প্রথম দফায় পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ক্যাম্পাসে ফের সংঘর্ষের ছবি সামনে আসে, যার জেরে মিছিলকারী ছাত্রছাত্রী ও পুলিশের মধ্যে হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়। দুর্গাপূজার মধ্যরাতে ক্যাম্পাসে বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী প্রবেশ করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এরপর থেকেই প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এই ফিল্ম ইনস্টিটিউট।

২. প্রশাসনের নোটিশ ও ছাত্র ইউনিয়নের তীব্র ক্ষোভ

পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২৭শে সেপ্টেম্বর এবিজিপি (ABVP)-র সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় মোট ১৪টি ‘শো-কজ’ বা কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং ৬টি বহিষ্কারের নোটিশ জারি করে প্রশাসন। তবে এই নোটিশ নিয়েই তৈরি হয়েছে বড় বিতর্ক।

ছাত্র ইউনিয়নের অভিযোগ, গত ৩রা অক্টোবর ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাওয়া এক শিক্ষার্থীকে ৬ এবং ২৯শে অক্টোবরের তারিখ দিয়ে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ব্লসম হাজারিকা প্রশাসনের এই ত্রুটিপূর্ণ প্রক্রিয়া ও খামখেয়ালিপনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক কল্যাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে ছাত্র সংসদের দাবি, বারবার এমন যাচাইহীন নোটিশ জারি করার অর্থ হলো ইচ্ছাকৃতভাবে শিক্ষার্থীদের মানহানি ও কলঙ্কিত করা।

৩. উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

বর্তমানে শিক্ষার্থীদের মূল দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে পরিচালন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিরোধ এবং উপাচার্যের পদত্যাগ। প্রশাসনের কঠোর মনোভাব এবং শিক্ষার্থীদের অনড় অবস্থানের মাঝেই এই বন্ধের নোটিশ জারি করা হলো।

অন্যদিকে, এই গোটা ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতেও শুরু হয়েছে তরজা। বিজেপির পক্ষ থেকে বিষয়টিতে সরাসরি কোনো রাজনৈতিক মন্তব্য করা না হলেও, নেতা দেবজিৎ সরকার জানিয়েছেন যে কর্তৃপক্ষই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। অন্যদিকে, সিপিআই(এম) নেতা শত্রুঘ্ন ঘোষ মন্তব্য করেছেন যে, এটি একটি কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং কর্তৃপক্ষ যদি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য এটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে, তবে সেটাই তাদের বিচার্য বিষয়। সব মিলিয়ে ১১ ডিসেম্বরের আগে এই ঐতিহাসিক ক্যাম্পাসে পঠনপাঠন স্বাভাবিক হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।