ইস্কুল আছে, মাস্টারও আছেন কিন্তু পাত্তাই নেই পড়ুয়ার! রাজ্যের ৪১৩৩টি সরকারি স্কুলের কী ভবিষ্যৎ?

ক্লাসরুম আছে, চক-ডাস্টার আছে, এমনকি হাজির রয়েছেন শিক্ষকও! কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, রোল কলে ডাকার মতো নেই একজনও পড়ুয়া। পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থার এই অদ্ভুত কিন্তু বাস্তব চিত্র সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন। রাজ্যের এমন প্রায় ৪,১৩৩টি সরকার ও সরকার পোষিত স্কুলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এবার অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে নবান্ন।

বিনা ব্যবহারের কারণে পড়ে থাকা এই মেগা পরিকাঠামোগুলিকে ফেলে না রেখে বিকল্প জনস্বার্থমূলক কাজে ব্যবহার করার বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। আগামী মাত্র ৩০ দিনের মধ্যেই এই হাজার হাজার স্কুলের চূড়ান্ত ভাগ্য নির্ধারিত হতে চলেছে।

১৯ হাজার শিক্ষকের ভবিষ্যৎ ও জেলাশাসকদের চিঠি

কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ইউডিআইএসই+’ (UDISE+) রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ৪,১৩৩টি স্কুলে শূন্য এনরোলমেন্ট বা একজনও শিক্ষার্থী নেই। আশ্চর্যের বিষয়, এই বিশাল সংখ্যক স্কুলের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষক!

পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে ইতিমধ্যেই রাজ্য শিক্ষা সচিবের নির্দেশিকায় নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন।

  • বিশেষ জেলা কমিটি: প্রতিটি জেলায় জেলাশাসকের (DM) নেতৃত্বে এবং কলকাতায় পুরকমিশনারের অধীনে বিশেষ পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

  • পরিকাঠামো যাচাই: এই কমিটিগুলি প্রতিটি স্কুলের অবস্থান, ভবনের অবস্থা এবং পরিকাঠামো সরেজমিনে খতিয়ে দেখে রিপোর্ট তৈরি করবে।

কী কাজে ব্যবহার হবে এই স্কুল বাড়িগুলি?

অনর্থক সরকারি অর্থ অপচয় রুখতে ও পরিকাঠামোর সঠিক ব্যবহারে একাধিক বিকল্প প্রস্তাব ভাবা হচ্ছে:

বিকল্প ব্যবহারপরিকল্পনা ও রূপরেখা
পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP)বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আধুনিক শিক্ষাকেন্দ্র বা নতুন মডেলে স্কুল চালানো।
স্বাস্থ্যকেন্দ্র (Health Center)যেখানে বিকল্প স্কুলের ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে স্কুল বাড়িটিকে স্থানীয় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রূপান্তর।
প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (Training Center)যুব সমাজের দক্ষতার বিকাশে কারিগরি ও সরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরি।

কেন এই সিদ্ধান্ত এবং শিক্ষা মহলের প্রতিক্রিয়া

রাজ্যের শিক্ষা দফতর সূত্রে খবর, মাসের পর মাস ধরে বন্ধ থাকা অথবা শিক্ষার্থীহীন এই স্কুল ভবনগুলি যেমন নষ্ট হচ্ছিল, তেমনই পরোক্ষভাবে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি সাধন হচ্ছিল। অন্যদিকে বহু স্কুলে প্রয়োজনীয় শিক্ষকের অভাব রয়েছে।

৩০ দিনের মধ্যে জেলা কমিটিগুলির সুপারিশ জমা পড়ার পরেই রাজ্য সরকার চূড়ান্ত সিলমোহর দেবে, কোন স্কুলের ভবন কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে। রাজ্য সরকারের এই কড়া পদক্ষেপ শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার পাশাপাশি প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বড় বদল আনবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।