ইসরোর প্রযুক্তি কি তুলে দেওয়া হবে বেসরকারি সংস্থায়? কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম আশঙ্কায় কর্মীরা

মহাকাশ গবেষণায় বেসরকারি কোপ? ISRO-র রকেট ও উপগ্রহ নির্মাণ নীতি নিয়ে সরকারের কাছে জবাব তলব কর্মচারীদের
ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থায় (ISRO) বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের গুঞ্জনে শুরু হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। গত ছয় বছর ধরে মহাকাশ সেক্টরে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ার পর, এই প্রথম একসঙ্গে জোরালো প্রতিবাদের সুর তুললেন খোদ কর্মচারীরা। দেশের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে আসা ৯টি কর্মী ইউনিয়ন ও অ্যাসোসিয়েশন একযোগে স্পেস ডিপার্টমেন্টের (DoS) কাছে অফিসিয়াল ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে।
মূল উদ্বেগগুলো একনজরে:
রকেট তৈরিতে ইতি টানবে ISRO?: IN-SPACe-এর চেয়ারম্যান পবন গোয়েঙ্কার একটি মন্তব্যের পরেই মূলত এই আশঙ্কার সৃষ্টি হয়। সেখানে বলা হয়েছিল, ভবিষ্যতে ISRO আর কোনো লঞ্চ ভেহিক্যাল বা রকেট তৈরি করবে না এবং এই কাজ পুরোপুরি বেসরকারি সংস্থা বা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাদের (PSU) হাতে চলে যাবে।
প্রযুক্তি হস্তান্তরে অস্বচ্ছতা: জনগণের করের টাকায় গড়ে ওঠা প্রযুক্তি এবং পরিকাঠামো যেভাবে বেসরকারি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে, তাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে ইউনিয়নগুলি।
ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান ও চাকরির নিরাপত্তা: ISRO যদি শুধুমাত্র একটি গবেষণামূলক (R&D) প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়, তবে নিয়মিত কর্মী নিয়োগ, পদোন্নতি এবং বর্তমান কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় রকমের অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। রকেট ডিজাইন, সংযোজন ও উৎক্ষেপণের মতো মূল কাজগুলি হাতছাড়া হলে বহু কর্মী কাজহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।
কর্মীবাহিনীর স্পষ্ট অবস্থান
ইউনিয়নগুলির পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তারা দেশের শিল্প উন্নয়ন বা বাণিজ্যিকীকরণের বিরুদ্ধে নন। তবে সরকারিভাবে কোনো স্পষ্ট নীতি বা পলিসি ডকুমেন্ট ছাড়াই যেভাবে ISRO-র মূল কাঠামোগত ক্ষমতা ও মূল দায়িত্বগুলি বাইরে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে।
বিশেষ করে PSLV, LVM3, এবং SSLV-এর মতো সফল রকেটগুলির ভবিষ্যৎ কী হবে এবং এই রূপান্তরের জেরে আগামী দিনে তরুণ প্রজন্মের জন্য সরকারি চাকরির সুযোগ কমবে কিনা, সেই বিষয়ে লিখিত ও সময়ভিত্তিক জবাব চেয়েছে ISRO-র কর্মী সংগঠনগুলি। মহাকাশ গবেষণার মতো একটি কৌশলগত ক্ষেত্রে এই অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ আগামী দিনে কী মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।