ইরানের সঙ্গে কি শেষ পর্যন্ত রফাদফা? পরমাণু ইস্যুতে মুখ খুলল মার্কিন শীর্ষ নেতৃত্ব

বিশ্বরাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে এক সম্ভাব্য ঐতিহাসিক চুক্তির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্তা শুক্রবার জানিয়েছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ না করার বিষয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য পাকাপাকি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই চুক্তির মূল ভিত্তি হলো কড়া যাচাইকরণ এবং পরিদর্শন ব্যবস্থা, যার ওপর ভিত্তি করেই ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি নির্ভর করবে।

এই চুক্তির বিষয়ে ওই মার্কিন কর্তা জানান, ইরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিষ্ক্রিয় করতে এবং বিতর্কিত পারমাণবিক কেন্দ্রগুলি বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। যদিও প্রযুক্তিগত আলোচনার জন্য ৬০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, তবে তেহরানের এই প্রতিশ্রুতিকে বিশ্বশান্তির পথে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, “আমরা এমনভাবে চুক্তিটি সাজিয়েছি যাতে ইরান তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করার পরেই অর্থনৈতিক সুবিধাগুলো পায়। যতক্ষণ না আমরা নিশ্চিত হচ্ছি যে তারা পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছে, ততক্ষণ কোনো সুবিধা মিলবে না।”

বিশেষজ্ঞ মহলের নজর কেড়েছে এই চুক্তির প্রতি আঞ্চলিক সহযোগীদের সমর্থন। মার্কিন ওই কর্তার দাবি, ইজরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোসহ সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক শক্তিগুলো এই চুক্তির প্রক্রিয়ায় সায় দিয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “চুক্তিতে রাজি হওয়ার অর্থ এই নয় যে তারা তাদের আত্মরক্ষার অধিকার ছেড়ে দিয়েছে। ইরান যদি কথা না রাখে, তবে ইজরায়েলের মতো দেশ যে চুপ করে বসে থাকবে না, তা বলাই বাহুল্য।”

ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়েও একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন মার্কিন কর্তা। তাঁর মতে, ইরানের আইআরজিসি (IRGC), কট্টরপন্থী গোষ্ঠী এবং অসামরিক নেতৃত্বের মধ্যেও এই চুক্তি নিয়ে এক প্রকার সহমত তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “সিস্টেমের ভেতরেই একটি বোঝাপড়া আছে। আমরা বিশ্বাস করি ইরানের নেতৃত্ব এখন অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে তাদের পরমাণু কর্মসূচির চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।”

ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের দাবি—ইরানের কাছে এমন কোনো পারমাণবিক পরিকাঠামো না থাকুক যা অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের অসামরিক পারমাণবিক শক্তি কর্মসূচির বিরোধী নয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের কথা তুলে ধরেন, যারা পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেও বোমা তৈরির পরিকাঠামো রাখে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেই মডেলেই ইরানকে একবিংশ শতাব্দীর বিশ্ব অর্থনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রলোভন দেখিয়েছে। তবে তার শর্ত একটাই—পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির চিরস্থায়ী বিসর্জন এবং আঞ্চলিক শান্তি স্থাপনে ইতিবাচক ভূমিকা। এখন দেখার বিষয়, তেহরান এই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথ বেছে নেয় নাকি তার পুরনো জেদ আঁকড়ে ধরে থাকে।