ইরানের অন্দরে কি গৃহযুদ্ধ? ট্রাম্পের বিস্ফোরক দাবির পর তোলপাড় বিশ্ব রাজনীতি!

ইরানের ক্ষমতার অলিন্দে কি সত্যিই ফাটল ধরেছে? মার্কিন মিডিয়া ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লাগাতার দাবির মুখে এবার সরাসরি যুদ্ধের বার্তা দিল তেহরান। মার্কিন প্রশাসনের দাবি ছিল, ইরানের সরকার বর্তমানে মারাত্মকভাবে বিভক্ত। এই তত্ত্বকে নস্যাৎ করে দিয়ে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দিল—দেশ সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ এবং আমেরিকার এই দাবি কেবলই ভিত্তিহীন রটনা।

ইরান সরকারের বিভিন্ন শাখার প্রধানরা একযোগে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘X’-এ একটি বার্তা শেয়ার করেছেন। তাঁদের দাবি, ইরানকে ‘কট্টরপন্থী’ বা ‘নরমপন্থী’ তকমা দিয়ে বিভেদ তৈরির চেষ্টা হলেও বাস্তবে তার কোনো অস্তিত্ব নেই। ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ থেকে শুরু করে কৃষিমন্ত্রী গোলামরেজা নুরি—সবাই একই সুর মিলিয়েছেন। পার্লামেন্ট স্পিকার এমবি গালিবাফ গর্জে উঠে বলেন, “ইরানে কোনো র‍্যাডিকাল বা মডারেট নেই; আমরা সবাই ইরানি ও বিপ্লবী। এক আল্লাহ, এক নেতা এবং এক জাতির এই লৌহকঠিন ঐক্যই আমাদের বিজয়ের পথ।”

তবে এই ঐক্যের বার্তার মাঝেও একটি বড়সড় রহস্য দানা বেঁধেছে। ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলি খামেনিকে এখনও জনসমক্ষে একবারও দেখা যায়নি। রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইজরায়েলি বিমান হামলায় প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির মৃত্যুর পর, ৮ মার্চ তাঁর দ্বিতীয় পুত্র মোজতবাকে নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। কিন্তু ক্ষমতাগ্রহণের পর থেকে তিনি আড়ালেই রয়েছেন, কেবল দুই-একটি বার্তা প্রকাশ্যে এসেছে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পোস্ট ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান সরকার মারাত্মকভাবে বিভক্ত। তিনি জানান, পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশের অনুরোধে তিনি ইরানের ওপর আক্রমণ স্থগিত রেখেছেন, যাতে তেহরানের নেতৃত্ব একটি ঐক্যবদ্ধ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার টেবিলে আসতে পারে। কিন্তু ইরানের সামরিক বাহিনী (IRGC) এবং শীর্ষ তিন প্রশাসনিক প্রধান—প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, স্পিকার গালিবাফ এবং বিচার বিভাগের প্রধান মোহসেনি-এজেই-এর যৌথ উপস্থিতি প্রমাণ করতে চাইছে যে, বাইরে থেকে ফাটল ধরানো অসম্ভব। এখন প্রশ্ন হলো, মোজতবা খামেনি কি শীঘ্রই প্রকাশ্যে এসে এই জল্পনার অবসান ঘটাবেন?