ইন্দোরে ডঃ মোহন যাদবের মেগা মাস্টারপ্ল্যান! বদলে যাচ্ছে মধ্যপ্রদেশের মানচিত্র, বিরাট ধামাকা?

মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মোহন যাদবের নেতৃত্বে মধ্যপ্রদেশ আজ সার্বিক উন্নয়নের এক নতুন দিগন্তে পা রাখতে চলেছে। তাঁর মূল লক্ষ্য এখন রাজ্যের নগর পরিকাঠামো এবং শহরগুলির সার্বিক অবস্থার অভূতপূর্ব রূপান্তর ঘটানো। এই দূরদর্শী ভাবনাকে বাস্তবায়িত করতে আগামী ২৮শে অক্টোবর ইন্দোরের ঐতিহাসিক ব্রিলিয়ান্ট কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত হতে চলেছে ‘আরবান গ্রোথ কনক্লেভ ২.০’। নগর উন্নয়ন ও আবাসন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এই মেগা সম্মেলনে স্বয়ং উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী।

বিনিয়োগ ও নতুন রূপরেখা:
নগর উন্নয়ন ও আবাসন বিভাগের কমিশনার সংকেত ভন্ডভে জানিয়েছেন, রাজ্যের শহরগুলিকে আধুনিক, সুসজ্জিত এবং বিনিয়োগের অনুকূল করে তুলতে এই কনক্লেভ একটি ঐতিহাসিক অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। কনক্লেভে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, নীতিগত উদ্যোগ এবং নগর উন্নয়ন সম্পর্কিত স্থায়ী সমাধানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর ও উদ্বোধন:
এই সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করবেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (শহুরে)-এর অধীনে তৈরি আবাসন, পুনঃঘনত্বকরণ, সংকুচিত বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট, পানীয় জল সরবরাহ ও উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা। এসব প্রকল্প শহরের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে পূরণ করে নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করবে।

নতুন নীতিমালার প্রকাশ:
সম্মেলনে ‘মধ্যপ্রদেশ নগর সাশ্রয়ী আবাসন নীতি, ২০২৬’ এবং ‘পরিশোধিত বর্জ্যজল পুনর্ব্যবহার নীতি, ২০২৬’-এর খসড়া উন্মোচিত হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো সাশ্রয়ী আবাসন সরবরাহ বাড়ানো, বেসরকারি বিনিয়োগ টানা এবং প্রক্রিয়াজাত জলের পুনঃব্যবহারের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানীয় জলের অপচয় কমানো।

ইন্দোর অর্থনৈতিক অঞ্চল ও একক বৈঠক:
নীতি আয়োগের নির্দেশনায় প্রস্তুত করা ‘ইন্দোর ইকোনমিক রিজিয়ন রিপোর্ট’ প্রকাশ করা হবে, যা আশেপাশের আটটি জেলার অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দেবে। এছাড়া সেন্ট্রাল ভিস্তা ভোপাল, হুকুমচাঁদ মিল পুনঃউন্নয়ন ও উজ্জয়েনের টেম্পল বন্ড প্রজেক্টের মতো মেগা প্রজেক্টে বিনিয়োগ টানা হবে। মুখ্যমন্ত্রী ডঃ যাদব নিজেই শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।

ডিজিটাল শাসন ও টেকসই উন্নয়ন:
নগর প্রশাসনকে আরও স্বচ্ছ ও নাগরিক-বান্ধব করতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ওপর জোর দেওয়া হবে। জলবায়ু-সহনশীল শহর গড়ে তোলা এবং চক্রাকার অর্থনীতির মাধ্যমে আবর্জনা থেকে সম্পদ তৈরির মতো উদ্ভাবনী ভাবনাই হবে এই কনক্লেভের অন্যতম প্রাণভোমরা।