ইনস্টাগ্রাম রিলসের মাশুল! ছাতারপুরে সুখী পরিবারের পতন, ন্যায়বিচারের আশায় এসপি অফিসে দিশেহারা শ্রমিক স্বামী

সোশ্যাল মিডিয়ার গ্ল্যামার এবং ইনস্টাগ্রাম রিলস তৈরির নেশা যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার ফের এক জ্বলন্ত উদাহরণ উঠে এল মধ্যপ্রদেশের ছাতারপুর জেলা থেকে। ভার্চুয়াল জগতের চাকচিক্যে ভুলে এক গৃহবধূ তাঁর সাজানো সংসার, স্বামী এবং দুই নিষ্পাপ সন্তানকে এক নিমেষে ফেলে চলে গেলেন প্রেমিকের হাত ধরে। এই ঘটনায় বর্তমানে ছাতারপুর জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সুবিচারের আশায় ভুক্তভোগী স্বামী এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

ঘটনার সূত্রপাত শাহপুরের বাসিন্দা মুকুন্দি আহিরওয়ারের পরিবারে। মুকুন্দি পেশায় একজন দিনমজুর। অভাবের সংসারে দিন আনা দিন খাওয়া হলেও তাদের পারিবারিক জীবন ছিল মোটামুটি সুখের। কিন্তু স্ত্রীর সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি ঝোঁক ধীরে ধীরে সেই সুখের নীড়ে অশান্তির মেঘ ঘনিয়ে তোলে। মুকুন্দি জানান, তাঁর স্ত্রী ইনস্টাগ্রামে রিলস তৈরির নেশায় মত্ত ছিলেন। এই রিলস বানাতে গিয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় এক যুবকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরিচয় থেকে ঘনিষ্ঠতা—প্রথমে মেসেজ, পরে ভিডিও কলের মাধ্যমে দীর্ঘক্ষণ কথাবার্তা চলতে থাকে। মুকুন্দি যখন রোজগারের সন্ধানে বাইরে থাকতেন, তখন তাঁর অজান্তেই স্ত্রী ওই যুবকের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চ্যাট করতেন।

আশ্চর্যের বিষয়, নিজের কুকীর্তি ঢাকতে ওই মহিলা তাদের ছোট মেয়ের ওপরও মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। মুকুন্দির দাবি, তাঁর মেয়েকে ওই মহিলা শাসিয়ে রেখেছিলেন যাতে সে বাবাকে এই অবৈধ সম্পর্কের বিষয়ে কিচ্ছু না বলে। এমনকি বাবাকে জানালে মেয়েকে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। অবশেষে ১৬ই অক্টোবর, ছাতারপুরের বাসিন্দা ওই মহিলা হঠাৎই তাঁর দুই সন্তানকে রেখে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যান।

ঘটনার পর মুকুন্দি স্থানীয় থানায় স্ত্রীর নামে নিখোঁজ ডায়েরি করেন। পরবর্তীতে স্ত্রীকে খুঁজে পাওয়া গেলেও পরিস্থিতি মোড় নেয় অন্য দিকে। মুকুন্দি যখন স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে যান, তখন তিনি সটান ফিরে আসতে অস্বীকার করেন। ভুক্তভোগী স্বামীর অভিযোগ, এ বিষয়ে পুলিশি পদক্ষেপও ছিল হতাশাজনক। পুলিশ তাঁকে কোনো সঠিক সাহায্য না করে সরাসরি আদালতে মামলা করার পরামর্শ দিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছে।

অশ্রুসিক্ত নয়নে মুকুন্দি সংবাদমাধ্যমের সামনে জানান, “আমি একজন গরিব শ্রমিক। আমি সন্তানদের মুখে অন্ন তুলে দেব, নাকি আদালতে আইনি লড়াই লড়ব? আমার দুটি সন্তান—একটি ছেলে ও একটি মেয়ে, তারা মায়ের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত। আমি প্রশাসন ও পুলিশের কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করছি, আমার স্ত্রী যেন ফিরে আসে এবং সন্তানদের দায়িত্ব নেয়।” একজন শ্রমিকের এই করুণ আর্তি এখন ছাতারপুর জেলার সাধারণ মানুষের হৃদয়ে নাড়া দিয়েছে। একদিকে সোশ্যাল মিডিয়ার অন্ধ মোহে পরিবারের ধ্বংস, আর অন্যদিকে সন্তানদের জন্য আকুল হয়ে ওঠা একজন পিতার লড়াই—এই ঘটনাটি বর্তমানে সমাজমাধ্যমে আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।