ইতিহাসের পাতায় সাউথ ব্লক! ফাঁকা হচ্ছে সেনাবাহিনীর কার্যালয়, নতুন ভবনে সরছেন সেনাপ্রধানরা

ভারতের প্রতিরক্ষা পরিকাঠামোয় এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন। দিল্লির ঐতিহ্যবাহী ‘সাউথ ব্লক’ থেকে শীর্ষ সেনা আধিকারিক ও তাঁদের সদর দফতর স্থানান্তরের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। চলতি মাস অর্থাৎ নভেম্বরের শেষ নাগাদ সাউথ ব্লক পুরোপুরি খালি করে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
এই মেগা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠ দিল্লি ক্যান্টনমেন্টে অবস্থিত নবনির্মিত ‘শৌর্য ভবন’-এ নিজের নতুন কার্যালয় সামলাবেন। অন্যদিকে, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথন স্থানান্তরিত হবেন ঐতিহ্যবাহী ‘সেনা ভবন’-এ।
সরছে ‘ওয়ার রুম’ ও ডিজিএমও অফিস: প্রশাসনিক পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তার অত্যন্ত সংবেদনশীল শাখাগুলির ঠিকানাও বদলাচ্ছে। সেনাবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ওয়ার রুম’ এবং ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস (DGMO)-এর কার্যালয়কে সাউথ ব্লক থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভারতের সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দুকে আরও আধুনিক করতে এই সিদ্ধান্তকে এক বিরাট মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে নৌবাহিনীর মূল ‘ওয়ার রুম’ কোথায় স্থানান্তর করা হবে, তা নিয়ে প্রযুক্তিগত ও পরিকাঠামোগত চিন্তাভাবনা এখনও চলছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে উদ্বোধন হওয়া ‘নৌসেনা ভবন’ ছাড়াও ডিআরডিও (DRDO) সদর দপ্তরের পাশে নৌবাহিনীর কার্যালয় করার কথা থাকলেও কেন্দ্রীয় সরকারের পুনর্উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে সেই জায়গা খালি করার নির্দেশ এসেছে। বর্তমানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের গুরুত্বপূর্ণ কাজ পরিচালিত হচ্ছে ‘কর্তব্য ভবন ২’ থেকে।
প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণে রাজনাথ সিংয়ের মেগা বৈঠক: অন্যদিকে, রাজস্থানের জয়সলমেরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের উচ্চপর্যায়ের পরামর্শক কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। ‘ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর আধুনিকায়ন’ শীর্ষক এই বৈঠকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও দ্রুত যুদ্ধক্ষম সামরিক বাহিনী গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান, ২০২৯ সালের মধ্যে ভারতে ৩ লক্ষ কোটি টাকার রেকর্ড প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং ৫০ হাজার কোটি টাকার প্রতিরক্ষা সামগ্রী রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কেন্দ্র। দিল্লি থেকে জয়সলমের— ভারতীয় সেনাকে বিশ্বসেরা করে তুলতেই এই বিরাট প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ঢল।