ইউনেস্কোর লোগো বেচে কোটি কোটি টাকার জালিয়াতি? প্রাক্তন মন্ত্রীর মেয়ের লালবাজারে হাজিরা ঘিরে তোলপাড়!

ইউনেস্কোর (UNESCO) নাম ও ঐতিহ্যবাহী লোগো বেআইনিভাবে ব্যবহার করে দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’-এর পাস বিক্রি এবং কোটি কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর অভিযোগে বড় পদক্ষেপ নিল কলকাতা পুলিশ। এই মেগা জালিয়াতি মামলার রহস্য উন্মোচনে কলকাতা পুলিশের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) এপর্যন্ত মোট ২৭টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে। লালবাজার সূত্রের খবর, এই অ্যাকাউন্টগুলির সাথে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর সংস্থা ‘মাস আর্ট’-এর সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি বসু ওরফে শুভর প্রত্যক্ষ যোগসূত্রের সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তকারীদের মূল নজর এখন ইউনেস্কোর মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মের নাম ভেঙে কীভাবে প্রিভিউ শোয়ের টিকিট ও পাস মোটা অঙ্কের টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল এবং সেই বিপুল অর্থ কোন কোন খাতে পাঠানো হয়েছিল তা খতিয়ে দেখার ওপর। ফ্রিজ হওয়া অ্যাকাউন্টগুলির সাম্প্রতিক সমস্ত লেনদেন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে স্ক্যান করা হচ্ছে। এই আর্থিক তছরুপের জালে আর কারা যুক্ত রয়েছে, তা জানতেই লালবাজারের শীর্ষ গোয়েন্দারা মরিয়া।
এদিকে মামলাটিতে লালবাজারে সিটের মুখোমুখি হতে দেখা গেছে গ্রেফতার হওয়া প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের কন্যাকে। সম্প্রতি দুপুরে লালবাজারে সিট সদস্যদের সামনে হাজিরা দেন তিনি। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তাঁকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। তবে সূত্রের দাবি, এই পাস বিক্রি বা আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না বলে তদন্তকারীদের কাছে দাবি করেছেন। এর আগে প্রাক্তন মন্ত্রীর স্ত্রী মধুছন্দাকেও দু’দিন ধরে জেরা করা হয়, যিনি তদন্তের সময় সমস্ত দায় এড়িয়ে গিয়েছেন। অন্যদিকে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন নিজেও এই দুর্নীতির বিষয়ে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত বলে দাবি করেছেন।
অন্যদিকে এই মেগা স্ক্যামে বুধবার রাতে গ্রেফতার করা হয় অন্যতম মূল অভিযুক্ত ধ্রুবজ্যোতি বসু ওরফে শুভকে। আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁকে আগামী ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তকারীদের আশা, ধ্রুবজ্যোতিকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করলেই পুজো পাসের আড়ালে লুকিয়ে থাকা আন্তর্জাতিক লোগো জালিয়াতির পুরো নেটওয়ার্ক ফাঁস হয়ে যাবে।