‘আর্থিক সাহায্য চাওয়া নিষ্ঠুরতা নয়’, কর্মরতা স্ত্রীর পারিবারিক দায়িত্ব নিয়ে হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়!

কর্মরতা এবং শিক্ষিত স্ত্রীকে সংসারে আর্থিক সাহায্য করতে বলা কোনোভাবেই ‘নিষ্ঠুরতা’ নয়। সম্প্রতি এক তাৎপর্যপূর্ণ রায়ে এই মন্তব্য করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্ত একটি মামলার রায় দিতে গিয়ে জানান, যদি শাশুড়ি ছেলের বউকে সংসারের কাজে বা আর্থিক সহযোগিতার কথা বলেন, তবে তা এক যৌক্তিক পারিবারিক প্রত্যাশা। এর ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তা উঠে এসেছে, যা ভারতীয় সমাজে নারী-পুরুষের সমানাধিকার ও দায়িত্ববোধ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

আদালতের এই পর্যবেক্ষণে নারী অধিকারের সমতার পাশাপাশি পারিবারিক দায়িত্বের বিষয়টিও উঠে এসেছে। সমাজ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যখন নারীরা শিক্ষাক্ষেত্র ও কর্মজীবনে পুরুষের সঙ্গে সমান তালে এগোচ্ছেন, তখন শুধু পুরুষই সংসার চালাবেন, এই ধারণাটি ন্যায়সঙ্গত নয়। হাইকোর্ট এই রায়ের মাধ্যমে সেই দ্বিচারিতার বিরুদ্ধেই একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে। রায়টি অর্থনৈতিক সমানুভূতির ওপর জোর দেয় এবং বোঝায় যে, একজন উপার্জনকারী নারীর সংসারের প্রতি কিছু দায়িত্ব থাকা নৈতিকভাবেও যুক্তিসঙ্গত।

এই রায়টি গার্হস্থ্য হিংসা আইন বা ৪৯৮A ধারার অপব্যবহার নিয়ে চলমান বিতর্কেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সামান্য পারিবারিক মতানৈক্যকে ‘নিষ্ঠুরতা’র মতো গুরুতর অভিযোগ হিসেবে দেখানো হয়, যা পরে আদালতে খারিজ হয়ে যায়। বিচারপতি গুপ্তের এই রায়ে স্পষ্ট হয়েছে যে, আইনের অপব্যবহার রোধ করা এবং প্রকৃত অপরাধের বিচার করা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য থাকা জরুরি।

এই রায়কে পুরুষ অধিকারের পক্ষে সওয়াল করা সংগঠনগুলো স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, এটি শুধু একটি রায় নয়, বরং একপেশে দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে এক সাহসী পদক্ষেপ, যা প্রমাণ করে যে সংসারে শুধু নারীর নয়, পুরুষেরও নিরাপত্তা থাকা উচিত।