আয় তলানিতে ঠেকলেও এক ধাক্কায় ৮ শতাংশ বাড়ল লাভ! বায়ার ক্রপসায়েন্সের বড় চমক

চ্যালেঞ্জিং ব্যবসায়িক পরিবেশ এবং প্রতিকূল আবহাওয়াকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দুর্দান্ত আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করেছে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় কৃষি রাসায়নিক ও বীজ প্রস্তুতকারক সংস্থা বায়ার ক্রপসায়েন্স লিমিটেড (বিসিএসএল)। চলতি অর্থবর্ষ ২০২৬-২৭-এর দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) কোম্পানির নিট মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে ৮.৮৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৬৬.২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর আগের অর্থবর্ষ ২০২৫-২৬-এর একই ত্রৈমাসিকে কোম্পানিটি ১৫২.৭ কোটি টাকার মুনাফা অর্জন করেছিল। বুধবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।
মুনাফার খাতা ফুলেফেঁপে উঠলেও এই ত্রৈমাসিকে কোম্পানির সামগ্রিক আয় কিছুটা কমেছে। পর্যালোচনাধীন সময়ে বায়ার ক্রপসায়েন্সের মোট আয় ১৯.४ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১,২৫০.৭ কোটি টাকায় নেমে এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ে ১,৫৫৮.৪ কোটি টাকা ছিল। আয়ের পাশাপাশি কোম্পানির সামগ্রিক খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এই সময়ে সংস্থার মোট ব্যয় হ্রাস পেয়ে ১,০৫২.৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা গত বছর একই সময়ে ১,৩৬৬.৯ কোটি টাকা ছিল। খরচ হ্রাসের এই ইতিবাচক পদক্ষেপই শেষ পর্যন্ত কোম্পানির নিট মুনাফা বাড়াতে বড় ভূমিকা পালন করেছে।
এই ত্রৈমাসিকের ব্যবসায়িক পরিস্থিতি নিয়ে বলতে গিয়ে কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাইমন ডব্লিউ. জানান, ‘‘দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে সামগ্রিক অপারেশনাল পরিবেশ বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। বিশেষ করে মৌসুমি বায়ুর অনিয়মিত ও অসম বণ্টনের কারণে কৃষকদের ফসল বোনার ধরনে এবং ফসল সুরক্ষা পণ্যের চাহিদায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েছিল। এছাড়া, ভুট্টা চাষের ক্ষেত্রও এই সময়ে সংকুচিত হয়েছিল।’’
তবে সমস্ত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সংস্থাটি নিজেদের কৌশলগত অবস্থানে অটল ছিল। সাইমন আরও জানান যে, অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করা, পণ্যের পোর্টফোলিও শক্তিশালী করা এবং নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও প্রসারের ওপর তাদের জোর সবসময় বজায় ছিল। কোম্পানির নির্বাহী পরিচালক ও প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) বিনীত জিন্দাল এই প্রসঙ্গে জানান যে, দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে নিট মুনাফায় প্রায় ৯ শতাংশ এবং প্রথম অর্ধবার্ষিকীতে ১৩ শতাংশের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। ভুট্টা বীজের উন্নত ফলন এবং খরচ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কার্যকর ব্যয়ের ফলে কোম্পানির গ্রস মার্জিনে এই উন্নতি সম্ভব হয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও একটি খুশির খবর দিয়েছে কোম্পানিটি। বায়ার ক্রপসায়েন্সের বোর্ড অফ ডিরెక్టర్স আগামী ৩১ মার্চ, ২০২৩-এ সমাপ্ত হতে চলা এই অর্থবর্ষের জন্য প্রতি শেয়ার পিছু ৯০ টাকা হারে ভারী অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশ (Interim Dividend) ঘোষণা করেছে। এই লভ্যাংশ প্রদানের জন্য কোম্পানির মোট ৪০৪.৫ কোটি টাকা খরচ হবে।