‘আমি সন্ত্রাসবাদী নই’! ১৭ শিশু জিম্মি করার নেপথ্যে ২.৪২ কোটি টাকার সরকারি প্রকল্পের চরম বিতর্ক

বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ের পাওয়াই-এর একটি স্টুডিওতে এক রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালায় মুম্বই পুলিশ। নিজেকে চিত্রপরিচালক দাবি করা রোহিত আর্য নামের এক ব্যক্তির হাত থেকে ১৭ শিশু সহ মোট ১৯ জনকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু হয় রোহিত আর্যর। তবে এই ভয়াবহ ঘটনার নেপথ্যে উঠে এসেছে মহারাষ্ট্রের শিক্ষা দফতরের একটি বিতর্কিত সরকারি প্রকল্পের ‘২.৪২ কোটি টাকার রহস্য’ এবং প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ।
মৃত্যুর আগে রোহিতের ‘সরল দাবি’
পুলিশি অভিযানের মুখে পড়ার কিছু মুহূর্ত আগে রোহিত আর্য একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, “আমি কোনও সন্ত্রাসবাদী নই। টাকার জন্য এসব করছি না। আমার টাকা চাই না!” তিনি বারবার উল্লেখ করেন যে, তাঁর কিছু ‘সরল, নীতিগত’ দাবি রয়েছে এবং তিনি ‘কারও সঙ্গে কথা’ বলতে চান। তবে তাঁর মৃত্যুর পরই এই জিম্মি কাণ্ডের পেছনে ২.৪২ কোটি টাকার আর্থিক বিবাদের কথা সামনে আসে।
সরকারি প্রকল্পে নাম জড়িয়েছে শিক্ষা দফতরের
মহারাষ্ট্রের শিক্ষা দফতর সূত্রে খবর, ২০২২-২৩ সালে ‘অপ্সরা মিডিয়া’ নামের এক সংস্থার সঙ্গে রোহিত আর্য যুক্ত ছিলেন এবং ‘লেটস চেঞ্জ’ (Lets Change) নামে একটি নগর স্যানিটেশন অভিযানের জন্য তথ্যচিত্র তৈরির বরাত পেয়েছিলেন। এই উদ্যোগে ৫৯ লক্ষ শিক্ষার্থীকে ‘স্বচ্ছতা মনিটর’ হিসেবে নিযুক্ত করার কথা ছিল। প্রথম পর্যায়ে ৯.৯ লক্ষ টাকা বিতরণও করা হয়েছিল। ২০২৩-২৪ সালে এই প্রকল্পেরই দ্বিতীয় ধাপে ‘মুখ্যমন্ত্রী মাঝি শালা সুন্দর শালা’-র জন্য মোট ২০.৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়, যার মধ্যে ‘স্বচ্ছতা মনিটর’-এর জন্য ২ কোটি টাকাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
প্রকল্পে জালিয়াতি, ছাত্রছাত্রীদের থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ
বৃহস্পতিবার রাতে শিক্ষা দফতর জানায়, রোহিত আর্য কর্তৃক জমা দেওয়া প্রকল্পের নথিপত্র অসম্পূর্ণ এবং ভুল তথ্যে ভরা ছিল। নথিগুলোতে বিজ্ঞাপন, জনবল এবং কারিগরি সহায়তার জন্য ‘স্পষ্টতই অতিরিক্ত খরচ’ দেখানো হয়েছিল। এই ত্রুটির কারণেই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত করা যায়নি।
এরই মধ্যে, রোহিত আর্য রাজ্যের সমস্ত স্কুলের জন্য প্রকল্পটি পুনরায় শুরু করার অনুরোধ জানান এবং ২.৪২ কোটি টাকা দাবি করেন। কিন্তু তাঁর নতুন প্রস্তাবেও কারচুপি ধরা পড়ে। মহারাষ্ট্র সরকারের দাবি, আর্য এই প্রকল্পে অংশগ্রহণের জন্য স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে বেআইনিভাবে ‘রেজিস্ট্রেশন ফি’ নিচ্ছিলেন।
সরকারি সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, গত বছর আগস্ট মাসেই রোহিত আর্যকে ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া সমস্ত টাকা ফেরত দিতে এবং এফিডেভিডে ভবিষ্যতে আর কোনো ফি না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু রোহিত আর্য এর কোনোটিই পালন করেননি।
এই জিম্মি কাণ্ড এবং তার নেপথ্যে ২.৪২ কোটি টাকার সরকারি প্রকল্পের বিতর্ক এখন মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে চরম আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনার তদন্তের গতিপ্রকৃতির দিকে নজর রাখছে রাজ্যের শিক্ষা এবং রাজনৈতিক মহল।