“আমি দিদির সাথেই আছি!” শুভেন্দুর দিকে ঝুঁকেও উল্টো সুর একাধিক তৃণমূল বিধায়কের, দলবদলের নতুন মোড়?

উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকের পর রাজ্য রাজনীতিতে জোর রাজনৈতিক চর্চা ও জল্পনা তৈরি হয়েছে। শাসক দলের একাধিক বিধায়কের অনুপস্থিতি এবং পরবর্তীতে বিধানসভায় তাঁদের নাটকীয় মন্তব্যে তৃণমূলের অন্দরে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে। বিশেষ করে একাধিক বিধায়কের সুর বদল এবং ‘দিদির অনুগামী’ হওয়ার দাবিতে এখন উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতির ময়দান।
রায়গঞ্জের বৈঠকে অনুপস্থিতি ঘিরে জল্পনা
রায়গঞ্জের প্রশাসনিক বৈঠকে তৃণমূলের একাধিক হেভিওয়েট বিধায়কের অনুপস্থিতি নজর কেড়েছে। ইসলামপুরের বিধায়ক কানাইয়ালাল আগারওয়াল ছাড়া দেখা মেলেনি অনেকেরই।
মোশারফ হোসেন (ইটাহার): বৈঠকে অনুপস্থিত থেকে জানান, তাঁকে অফিশিয়াল আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। আগের মালদার বৈঠকে ডাকা হলেও এখানে না ডাকায় তিনি বিধানসভায় চলে আসেন।
হামিদুর রহমান (চোপড়া): পুজো পরবর্তী সময়ে বেসুরো থাকলেও বৈঠকে অনুপস্থিত থেকে পরে নিজের মন্তব্যে সুর বদল করেছেন।
গোলাম রব্বানী (গোয়ালপোখর): রায়গঞ্জের প্রশাসনিক অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন তিনিও।
“সই করলেও আমি মমতার দিকেই” — বিস্ফোরক মন্তব্য বিধায়কের
অনুপস্থিতিদের তালিকায় থাকা বিধায়ক মিনহাজ আফরিন আজাদ ও মোশারফ হোসেন এদিন বিধানসভায় উপস্থিত হন। মিনহাজ আফরিন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান:
“আমি কংগ্রেস থেকে শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারা তৃণমূলে এসেছিলাম। আমি শুরু থেকেই দিদির সাথে আছি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর আক্রমণের প্রতিবাদে মিছিলেও নেমেছিলাম। বিরোধী দলনেতার জন্য সই করেছিলাম ঠিকই, কিন্তু সই করলেও আমার মন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই ছিল। আমাদের যেভাবে বিষয়টি বোঝানো হয়েছিল, বাস্তবতা তা নয়। আমি ইতিমধ্যেই দিদির পক্ষে হলফনামা দিয়েছি।”
কড়া অবস্থানে কালীঘাট: শুরু ‘তালিকা’ জট
দলবদল ও সুর বদলের এই আবহ নিয়ে মুখ খুলেছেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “কাকে কাকে নেওয়া হবে আর কাকে নেওয়া হবে না, তা ইতিমধ্যেই ঠিক করা আছে।”
তৃণমূল সূত্রের খবর, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে কালীঘাট শিবির থেকে দু’টি আলাদা তালিকা তৈরি করা হয়েছে— ১. না নেওয়ার তালিকা: দলের বিরুদ্ধে গিয়ে বেসুরো হওয়া যে সমস্ত নেতাদের আর কিছুতেই দলে ফেরানো হবে না। ২. নেওয়ার তালিকা: যাঁরা পুনরায় আনুগত্য প্রকাশ করছেন এবং যাদের ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব।
প্রশাসনিক বৈঠকে নিমন্ত্রণ না পেয়ে বিধানসভায় হাজির হওয়া এবং অনুশোচনা প্রকাশ করে ‘দিদির সঙ্গে আছি’ বলে দাবি করা—সব মিলিয়ে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূলের পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী হতে চলেছে, এখন সেদিকেই চোখ রাজ্য রাজনৈতিক মহলের।