ডিএ-তে আকাশছোঁয়া ফারাক! কেন্দ্রের ৬৩% বনাম রাজ্যের ৩৮%, কর্মচারীদের ক্ষোভের আগুনে ঘি পড়ল কবে?

কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা (DA)-র ব্যবধান নিয়ে ফের রাজ্য রাজনীতি ও কর্মচারী মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্র সরকারের ডিএ বাড়ানোর পর দুই স্তরের কর্মচারীদের মধ্যে ফারাক এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ শতাংশে। এই বিশাল পার্থক্যের কারণে একদিকে যেমন কর্মীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনই ক্ষোভের পারদ চড়ছে রাজ্য সরকারি কর্মচারী মহলে।
কেন্দ্র বনাম রাজ্যের ডিএ পরিসংখ্যান
কেন্দ্রীয় ডিএ (৬৩%): সম্প্রতি ৩ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের মোট মহার্ঘ ভাতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩ শতাংশে, যা চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (AICPI)-এর ভিত্তিতে প্রতি বছর দু’বার (জানুয়ারি ও জুলাই) কেন্দ্রীয় ডিএ সংশোধিত হয়।
রাজ্য ডিএ (৩৮%): অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দফায় দফায় বৃদ্ধি করে বর্তমানে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মোট ৩৮ শতাংশ হারে ডিএ দেওয়া হচ্ছে। ফলে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সরাসরি ২৫ শতাংশের বিরাট ফারাক তৈরি হয়েছে।
বেতন ও পেনশনে বড় ধাক্কা
ডিএ-র এই বিশাল পার্থক্যের ফলে সমপদমর্যাদার একজন কেন্দ্রীয় কর্মচারীর তুলনায় পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মাসিক ‘টেক-হোম স্যালারি’ বা হাতে আসা বেতন অনেকটাই কম হচ্ছে। এর জেরে চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে হচ্ছে কর্মচারীদের। শুধু কর্মরত কর্মীরাই নন, এই ফারাকের আঁচ এসে পড়ছে রাজ্য সরকারের অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীদের উপরেও।
পে কমিশনের ফারাক ও দীর্ঘদিনের অসন্তোষ
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দূরত্বের অন্যতম প্রধান কারণ হল বেতন কাঠামোর তফাত। কেন্দ্রীয় কর্মচারীরা যেখানে সপ্তম পে কমিশনের আওতায় ডিএ পান, সেখানে রাজ্য সরকারি কর্মীরা এখনও ষষ্ঠ বেতন কমিশন (ROPA 2019)-এর কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরেই এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিভিন্ন রাজ্য সরকারি কর্মচারী সংগঠন। একদিকে যেমন আইনি লড়াই চলছে আদালতে, তেমনই অন্যদিকে যৌথ সংগ্রামী মঞ্চের ব্যানারে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন কর্মীরা। এখন দেখার, এই ২৫ শতাংশের ব্যবধান ঘুচিয়ে রাজ্য কর্মীরা কবে কেন্দ্রীয় হারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেন।