“আমায় মুখ খোলাবেন না!” হাইকোর্টে প্রধান বিচারপতির প্রচণ্ড ধমক, কড়া নির্দেশের পরেই মাঝরাতে গ্রেফতার আইনজীবী!

শারীরিক অসুস্থতা ও ‘মানসিক রোগী’র বাহানা বানিয়ে টানা তিন বছর পুলিশি গ্রেফতারি এড়িয়ে চলছিলেন অভিযুক্ত আইনজীবী। তবে শেষ রক্ষা হলো না। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের কড়া চাবুক ও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশের পর রাতারাতি অ্যাকশনে নামল পুলিশ। গ্রেফতার করা হলো এক তরুণীকে ব্ল্যাকমেল, লাগাতার ধর্ষণ এবং বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত চুঁচুড়ার বাসিন্দা পার্থসারথি ঘোষকে।
“পশ্চিমবঙ্গে পরোয়ানা জারির পরও গ্রেফতার হয় না!” ক্ষুব্ধ প্রধান বিচারপতি
বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে ধর্ষণের এই মামলার শুনানি চলাকালীন চরম ক্ষোভ উগরে দেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে। অভিযুক্তের আইনজীবীর উদ্দেশ্যে তাঁর স্পষ্ট ও তীক্ষ্ণ বার্তা, “পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পরেও অভিযুক্ত গ্রেফতার হয় না! আমায় মুখ খোলাবেন না। তাহলে আমি আরও কড়া পর্যবেক্ষণ নিতে বাধ্য হব।”
অভিযুক্তের হাইকোর্টে আবেদন করার আইনি এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধান বিচারপতি সাফ জানান, মামলায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করার থাকলে তা নিম্ন আদালতে গিয়ে প্রমাণ করতে হবে, হাইকোর্টে ঢাল তৈরি করা চলবে না।
ছবি ফাঁসের ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ, ‘মামা বিধায়ক’ বলে হুমকির অভিযোগ
মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী ধনঞ্জয় বন্দ্যোপাধ্যায় ও আইনজীবী অরূপ কুমার ভৌমিক আদালতে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনে জানান, হুগলির চুঁচুড়ার বাসিন্দা পার্থসারথি ঘোষ এক তরুণীর ব্যক্তিগত ও অন্তরঙ্গ ছবি ফাঁসের ভয় দেখিয়ে টানা ধর্ষণ চালিয়ে যায়। শুধু তাই নয়, ব্ল্যাকমেল করে তরুণীর কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা ও দামি গ্যাজেট হাতিয়ে নেয় সে। অভিযোগকারীকে চুপ রাখতে নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বলত, ‘তাঁর মামা বিধায়ক’।
অক্সিজেন মাস্কের নাটক ও রাতারাতি গ্রেফতারি
আইনি সূত্রে জানা গিয়েছে, নিম্ন আদালত ও হাইকোর্ট—উভয় স্থান থেকেই আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর গ্রেফতারি এড়াতে নতুন ছক কষে পার্থসারথি। বিধাননগরে মামার বাড়িতে নিজেকে গুরুতর অসুস্থ ও মানসিক রোগী দাবি করে মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগিয়ে টানা তিন বছর পুলিশকে এড়িয়ে চলছিল সে।
বুধবার হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আইনের হাত থেকে বাঁচতে ‘অসুস্থতা’কে ঢাল করার কোনও কৌশল আর বরদাস্ত করা হবে না। প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা করিয়ে হলেও পুলিশকে অবিলম্বে গ্রেফতারি রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
আদালতের এই চরম হুঁশিয়ারির পর আর ঝুঁকি নেয়নি বিধাননগর থানার পুলিশ। বুধবার রাতেই অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্তকে। রাজ্য সরকারের তরফে বৃহস্পতিবার আদালতে জানানো হয়, গ্রেফতারের পর বর্তমানে তাকে এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
আইনি নিয়ম মেনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিম্ন আদালতে পরবর্তী পদক্ষেপ না নিলে এই গ্রেফতারি বেআইনি হয়ে যাবে—পুলিশকে এ বিষয়ে সজাগ থাকার কড়া নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।