‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’, ২১শে জুলাইয়ের পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন জনসংযোগ প্রকল্প

২১শে জুলাইয়ের সমাবেশ থেকে কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তীব্র সমালোচনা করলেও, সেদিন নতুন কোনো প্রকল্পের ঘোষণা করেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সমাবেশ শেষ হওয়ার মাত্র একদিন পরেই নবান্ন থেকে এক নতুন সরকারি প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন তিনি, যার নাম ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’। এই প্রকল্পটি ‘দুয়ারে সরকার’-এর আদলেই তৈরি হলেও, মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে দুটি প্রকল্পই পাশাপাশি চলবে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা অনুযায়ী, ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল এলাকার ছোটখাটো সমস্যাগুলির সমাধান করা। পাড়ায় জলের কল বসানো, বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন করা বা এই ধরনের স্থানীয় সমস্যাগুলি এই প্রকল্পের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করা হবে। আগামী ২রা আগস্ট থেকেই এই নতুন প্রকল্প শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই প্রকল্পের কার্যকারিতা সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী বিশদ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, তিনটি বুথকে মিলিয়ে একটি ইউনিট গঠন করা হবে। প্রতিটি ইউনিটে একদিন করে সরকারি বিভিন্ন দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত থাকবেন। প্রতিটি বুথের জন্য ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা সমগ্র প্রকল্পের জন্য ৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ ব্যয় হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, এই প্রকল্পের জন্য প্রতিটি বুথকে চিহ্নিত করে জেলা প্রশাসনকে একটি তালিকা পাঠাতে বলা হয়েছে। প্রতিটি শিবিরে পঞ্চায়েত, সেচ, বিদ্যুৎ, পূর্ত, জনস্বাস্থ্য কারিগরি, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা দফতরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। স্থায়ীভাবে বসার জায়গা তৈরি করা হবে, যেখানে স্থানীয় মানুষজন তাঁদের সমস্যার কথা সরাসরি জানাতে পারবেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন এই প্রকল্প সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, “দুয়ারে সরকার যেমন পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে মানুষের সমস্যার সমাধান করেছে, তেমনই ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ সাধারণ মানুষের ছোট ছোট সমস্যার সমাধান করবে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই রাজ্য সরকার এই নতুন প্রকল্পের সূচনা করছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল লক্ষ্য গ্রামীণ এলাকার ভোটারদের কাছে সরাসরি পৌঁছানো এবং তাঁদের দৈনন্দিন সমস্যার দ্রুত সমাধান করে জনসংযোগ বাড়ানো। এই প্রকল্প তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশলে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।