আপনার স্মার্টফোনের দাম বাড়ছে কেন? র‍্যামের বাজারে ৭০০% মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে কি বড় কোনো ষড়যন্ত্র?

সম্প্রতি স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা যেকোনো ইলেকট্রনিক্স গ্যাজেটের দাম যেভাবে বাড়ছে, তা সাধারণ ক্রেতাদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে। সরবরাহ চেইন বা মুদ্রাস্ফীতিকে অজুহাত হিসেবে দেখানো হলেও, ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিশ্বের তিনটি শীর্ষ মেমোরি চিপ সরবরাহকারী সংস্থা—স্যামসাং, এসকে হাইনিক্স এবং মাইক্রনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা সিন্ডিকেট গঠন করে র‍্যামের উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে, যার ফলে গত চার বছরে দাম বেড়েছে প্রায় ৭০০%!

বিশ্বের ৯০% ডিআরএএম (DRAM) বাজার এই তিনটি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে। বাজারে চাহিদা যখন তুঙ্গে, তখন তারা উৎপাদন না বাড়িয়ে বরং একে অপরের সঙ্গে আঁতাত করে সরবরাহ কৃত্রিমভাবে আটকে দিয়েছে। এই সিন্ডিকেটের খেলার কারণে সাধারণ গ্রাহকরা চড়া দামে গ্যাজেট কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের লক্ষ্য এখন সাধারণ গ্রাহক নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কোম্পানিগুলো। এআই ডেটা সেন্টারে ব্যবহৃত ‘হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি’ (HBM) থেকে কোম্পানিগুলো বিপুল মুনাফা পাচ্ছে, তাই প্রচলিত ডিডিআর ৩ বা ৪ র‍্যামের উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে তারা। মাইক্রন তো তার জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ‘ক্রুশিয়াল’-এর উৎপাদনই বন্ধ করে দিয়েছে।

ভারতে অ্যাপলের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টরা এই তিনটি কোম্পানির ওপরই র‍্যামের জন্য নির্ভর করে। অ্যাপল তাদের ডিভাইসে স্যামসাং, এসকে হাইনিক্স বা মাইক্রনের কাস্টমাইজড র‍্যাম ব্যবহার করে। চিপ নির্মাতাদের দাবি, মুনাফা ধরে রাখতেই তারা এআই খাতের দিকে ঝুঁকেছে। তবে নতুন কোনো কোম্পানির বাজারে প্রবেশ করা প্রায় অসম্ভব, কারণ একটি চিপ কারখানা বা ‘ফ্যাব’ তৈরি করতে খরচ হয় ১.২৫ থেকে ১.৬৫ লক্ষ কোটি টাকা এবং অনুমোদনের জন্য প্রয়োজন দীর্ঘ সময়।

এই কোম্পানিগুলোর কারসাজির ইতিহাস বেশ পুরনো। ১৯৯৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্তও তারা মূল্য নির্ধারণে কারসাজি করে মার্কিন বিচার বিভাগ কর্তৃক জরিমানার মুখে পড়েছিল। ভারতের বাজারে এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। উৎসবের মরসুমে স্মার্টফোন ও ল্যাপটপের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি, রিলায়েন্স বা আদানির মতো কোম্পানিগুলোর এআই ডেটা সেন্টার স্থাপনের খরচও বহুগুণ বেড়ে যাবে। এখন দেখার বিষয়, আইনি লড়াইয়ের এই ফলাফল বিশ্ববাজারের চিপ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধিকে কতটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে।