আধার-প্যান কার্ড হাতিয়ে বিমা, ৭০ লাখের ঋণ শোধ করতে ‘অংশুল’ নামের কর্মীকে মৃত দেখানোর ফন্দি এঁটেছিলেন কমল সোমানি

‘ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়’ প্রবাদটি ভুল পথে ব্যবহার করতে গিয়েছিলেন এক দিল্লির ব্যবসায়ী। ৫০ লক্ষ টাকার বিমার টাকা হাতানোর জন্য তিনি এক জীবিত দোকানের কর্মীকে ‘মৃত’ দেখিয়ে প্লাস্টিকের পুতুলের শেষকৃত্য সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করেন। তবে শ্মশানকর্মী ও পুলিশের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত সেই জঘন্য ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়।

উত্তরপ্রদেশের হাপুড়ের কোতোয়ালি এলাকায় ব্রজঘাটে বৃহস্পতিবার এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।

## 🚨 শ্মশানঘাটে যা ঘটেছিল
দিল্লির টেক্সটাইল ব্যবসায়ী কমল সোমানি এবং প্রয়াগরাজের বাসিন্দা আশিস খুরানা বৃহস্পতিবার ব্রজঘাট শ্মশানে পৌঁছন।

পুতুল উদ্ধার: তারা খুব সাবধানে একটি শবযান থেকে কফিনে রাখা পুতুলটিকে শ্মশানের ভিতরে নিয়ে যান। শ্মশানের কর্মীরা যখন দেহটির শেষকৃত্যের জন্য ঘি মাখাতে যান, তখনই তাঁরা পুতুলটি দেখে অবাক হন। ‘ডাল মে কুছ কালা হ্যায়’ বুঝতে পেরে তাঁরা দ্রুত হাপুড় থানায় খবর দেন।

আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ: পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কমল ও আশিসকে আটক করে। শবযানটির ভিতর থেকে আরও দু’টি প্লাস্টিকের পুতুল উদ্ধার করা হয়।

প্রথমদিকে অভিযুক্তরা পুলিশকে বিভ্রান্ত করে বলেন যে, হাসপাতালের (বেসরকারি) কর্মীরাই ‘দেহ’ তথা পুতুলটি কফিনে সিল করে তাঁদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। তাঁরা এই বিষয়ে কিছুই জানেন না। কিন্তু বারংবার পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তারা সত্য স্বীকার করে নেন এবং দু’জনকেই গ্রেফতার করা হয়।

## 💰 ষড়যন্ত্র ও ঋণ পরিশোধের ফন্দি
পুলিশ সুপার (সিও) স্তুতি সিং জানিয়েছেন, অভিযুক্ত কমল সোমানি ৭০ লাখ টাকার ঋণ পরিশোধ করার জন্য এই ষড়যন্ত্র করেছিলেন।

ভুয়ো বিমা: কমল সোমানি জানান, এক বছর আগে তিনি তাঁর কাপড়ের দোকানের কর্মী অংশুলের আধার কার্ড এবং প্যান কার্ড ভুল বুঝিয়ে নিয়েছিলেন। সেই নথি ব্যবহার করে অংশুলের নামে তিনি টাটা এআইজি (TATA AIG) থেকে ৫০ লক্ষ টাকার ভুয়ো বিমা করান এবং কিস্তির টাকা এক বছর ধরে পরিশোধ করে আসছিলেন।

অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার কারণ: কমল অংশুলকে ‘মৃত’ দেখিয়ে বিমার টাকায় ঋণ শোধ করতে চেয়েছিলেন। বিমার টাকা পেতে মৃত্যুর শংসাপত্র প্রয়োজন ছিল, আর সেই শংসাপত্র পাওয়ার জন্যই তিনি পুতুল নিয়ে ব্রজঘাট শ্মশানে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য আসেন।

শেষ পর্যন্ত, পুলিশ যখন কমলের মোবাইল ফোনে ভিডিও কলের মাধ্যমে বাড়িতে থাকা অংশুলের সঙ্গে কথা বলে, তখনই পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়।