আকাশপথের ঘাতক রুখতে ভারতের ‘ব্রহ্মাস্ত্র’! ড্রোন হামলা থেকে বাঁচতে সীমান্তে কি বসছে দুর্ভেদ্য কবচ?

ভারতের জাতীয় সুরক্ষা নিয়ে কেন্দ্র সরকার এক অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর সতর্কবার্তা জারি করেছে। বিশ্বের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে দেশের স্থল ও সমুদ্র সীমান্তের কৌশলগত ঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় শত্রুপক্ষের ড্রোন হামলার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় জাহাজ ও জলপথ মন্ত্রকের মেরিটাইম সিকিউরিটি উইং-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই বিপজ্জনক ড্রোনের মাধ্যমে জরুরি ঘাঁটিগুলোর কাজকর্ম পুরোপুরি স্তব্ধ করে দেওয়ার ছক কষছে দুশমনেরা। এই গোয়েন্দা তথ্যের পরেই সরকার সমস্ত নিরাপত্তা সংস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে এবং সীমান্ত বরাবর অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম বসানোর নির্দেশ দিয়েছে।
ভারতের এই সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করছে ডিআরডিও (DRDO) সহ বিভিন্ন সংস্থার তৈরি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। ডি-৪ (D-4) অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম থেকে শুরু করে ভার্গবস্ত্র মাইক্রো-মিসাইল সিস্টেম—ভারত এখন আকাশপথের প্রতিটি অনুপ্রবেশ রুখতে সক্ষম। ডি-৪ সিস্টেম ৩-৫ কিমি দূর থেকেই ড্রোনকে শনাক্ত করে তার জিপিএস ও কমিউনিকেশন লিঙ্ক জ্যাম করতে পারে। এছাড়া আকাশতীর কাউন্টার-ইউএএস সিস্টেম প্রায় ১৫ কিমি রেঞ্জ পর্যন্ত ড্রোন ও মিসাইল ট্র্যাক করতে দক্ষ।
এই বিপদ মোকাবিলায় বিএসএফ (BSF) এবং সিআইএসএফ (CISF)-এর যৌথ উদ্যোগে পঞ্জাব সীমান্তে ইতিমধ্যেই ফিল্ড ট্রায়াল শুরু হয়েছে। এর পাশাপাশি ডিআরডিও, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো এবং এয়ারপোর্ট অথরিটির সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠিত হয়েছে, যারা দেশের সমস্ত বিমানবন্দর ও ভিভিআইপি জোনের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখছে। সম্প্রতি দেশের প্রথম বন্দর হিসেবে তামিলনাড়ুর থুথুকুড়ির ভি.ও. চিদাম্বরানার বন্দরে এই সুরক্ষা কবচ বসানো হয়েছে, যা ৩৬০-ডিগ্রি নজরদারি চালাতে সক্ষম। এটি সরকারের ‘মেরিটাইম ইন্ডিয়া ভিশন ২০৩০’-এর একটি বড় মাইলফলক।
মূলত রাডার, রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি সেন্সর এবং এআই (AI)-ভিত্তিক প্রযুক্তির সাহায্যে এই অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেমগুলো কাজ করে। শুধু শত্রু ড্রোন শনাক্ত করাই নয়, বরং সেগুলোর গতিবিধি ট্র্যাক করে মুহূর্তের মধ্যে ‘সফট-কিল’ বা ‘হার্ড-কিল’ পদ্ধতিতে ড্রোনগুলোকে আকাশেই গুঁড়িয়ে দিতে পারে ভারত। ইজরায়েলের আয়রন ডোম-এর আদলে তৈরি এই দেশীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা এখন ভারতের সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোকে দুর্ভেদ্য করে তুলছে। আকাশপথে শত্রুর যে কোনো চক্রান্তকে মাটি স্পর্শ করতে দেওয়ার আগেই ধ্বংস করার জন্য প্রস্তুত ভারতের এই ‘ব্রহ্মাস্ত্র’।