আইন ভেঙে ‘খোকা ইলিশ’ ধরা, মগরাহাটে ২৪০ কেজি মাছ আটক! রণক্ষেত্র নগেন্দ্র বাজার

সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও খোকা ইলিশ বিক্রি এবং পরিবহণের অভিযোগে পুলিশ একটি গাড়ি আটক করার পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার নগেন্দ্র বাজারে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার নিলামের সময় ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা।

কী ঘটেছিল?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মগরাহাট থানার নাকা চেকিংয়ের সময় একটি গাড়ি থেকে ২৪০ কেজি খোকা ইলিশ (৩০০ গ্রামের কম ওজনের ইলিশ) উদ্ধার হয়। মাছগুলো মূলত ডায়মন্ড হারবারের নগেন্দ্র বাজার এবং নামখানা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ওজনের কম ইলিশ ধরা এবং বিক্রি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

মৎস্য দপ্তর গাড়িটি আটক করে এবং নিয়ম মেনে মাছগুলো নগেন্দ্র বাজারে নিলামের জন্য নিয়ে আসে। ঠিক তখনই স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা প্রতিবাদে ফেটে পড়েন এবং নিলাম প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের দাবি, বাজারে ছোট মাছ বিক্রি হয় বলেই তারা সেগুলো কিনেছিলেন।

ব্যবসায়ীর সাফাই ও পুলিশের কড়া পদক্ষেপ
পুলিশের হাতে আটক হওয়া ব্যবসায়ী পিনাক চক্রবর্তী জানান, তিনি জেলার বিভিন্ন বাজারে মাছ সরবরাহ করেন। তার কথায়, ‘ছোট মাছ বাজারে বিক্রি হয় বলেই তো আমরা কিনি।’

তবে পুলিশের কাছে এই যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার সুপার বিশপ সরকার জানিয়েছেন, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিতুন দে বলেন, ‘বাজারে পাওয়া যায়, তাই কিনেছেন— এটা কোনো যুক্তি হতে পারে না। আইন ভাঙলে আইন মোতাবেকই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বর্তমানে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বেআইনিভাবে খোকা ইলিশের কারবার চলতে থাকায় প্রশাসনের কড়া নজরদারি আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।