অসুস্থতার অজুহাতে হাজিরা এড়ানোর চেষ্টা? অরূপ বিশ্বাসকে ফের নোটিশ বিধাননগর থানার!

রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তৈরি হয়েছে নতুন চাঞ্চল্য। বিধাননগর দক্ষিণ থানার তদন্তকারী অফিসাররা তাঁকে সোমবার ফের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছেন। পুলিশের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই তলব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তদন্তের স্বার্থে অরূপ বিশ্বাসের সশরীরে হাজিরা বাধ্যতামূলক।
এর আগে শনিবার অরূপ বিশ্বাসকে থানায় হাজিরার জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে সেদিন তিনি হাজিরা দেননি। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল ও আইনজীবীদের তরফে জানানো হয়, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি আপাতত থানায় যেতে সক্ষম নন। প্রাক্তন মন্ত্রী প্রায় ১৪ দিনের সময় চেয়ে পুলিশের কাছে আবেদন করেছিলেন, যাতে সুস্থ হয়ে তিনি পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা করতে পারেন। যদিও অরূপ বিশ্বাসের এই আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ প্রশাসন কোনো ছাড়পত্র দিয়েছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেছে। বরং তদন্তকারীদের একাংশ মনে করছে, তদন্তের স্বার্থে বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর, তাই সময় নষ্ট না করে দ্রুত জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন করা প্রয়োজন। সেই কারণেই নতুন করে সোমবার তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিধাননগর দক্ষিণ থানার একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, তদন্তের গতিপ্রকৃতি এবং বিভিন্ন তথ্যের যোগসূত্র মেলাতে অরূপ বিশ্বাসের বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। মামলার তদন্ত কোন দিকে মোড় নিচ্ছে, প্রাক্তন মন্ত্রী সেই পর্যায়ে কী ভূমিকা পালন করেছিলেন বা তাঁর কাছে থাকা নথি ও তথ্যগুলো কতটা প্রাসঙ্গিক—এইসব বিষয় যাচাই করতেই তাঁকে তলব করা হয়েছে।
প্রাক্তন মন্ত্রীর অসুস্থতার দাবি নিয়ে প্রশাসনিক মহলে জোর জল্পনা চলছে। সূত্রের খবর, পুলিশের একটি বিশেষ দল তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি এবং মেডিক্যাল রিপোর্টগুলি পর্যালোচনা করতে পারে। যদি সত্যিই তিনি গুরুতর অসুস্থ হন, তবে আইন মেনে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা পুলিশ প্রশাসন গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে। কিন্তু আপাতত, সোমবারের হাজিরার নির্দেশ বহাল রাখাই তদন্তকারী অফিসারদের প্রধান লক্ষ্য।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অরূপ বিশ্বাসের মতো উচ্চপদস্থ নেতার ওপর পুলিশের এই কড়া নজরদারি রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে বড়সড় আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে। সোমবার তিনি হাজিরা দেন কি না, নাকি ফের কোনো আইনি কৌশল অবলম্বন করেন, সেদিকেই তাকিয়ে আছে রাজ্যের সাধারণ মানুষ ও বিরোধী দলগুলো। প্রশাসনিক কঠোরতার এই আবহে অরূপ বিশ্বাসের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।