অষ্টম বেতন কমিশন: একই পদে থেকেও মিলছে আলাদা পেনশন? অসামরিক কর্মীদের জন্য বড় OROP দাবির নেপথ্যে কী?

অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের পর ইতিমধ্যেই কেটে গেছে ১০ মাস। বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বাধীন এই প্যানেলকে ১৮ মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্র। ২০২৭ সালের মে থেকে জুনের মধ্যে প্যানেল তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাঝেই দেশের লক্ষ লক্ষ কেন্দ্রীয় কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের নজর কেড়েছে একটি বড় দাবি। সশস্ত্র বাহিনীর আদলে কি এবার অসামরিক বা বেসামরিক কর্মচারীদের জন্যও ‘এক পদ এক পেনশন’ বা OROP ব্যবস্থা চালু হবে? এই প্রশ্ন ঘিরেই এখন সরগরম কর্মীমহল।

কমিশনের কাজের গতি বাড়াতে আগামী সপ্তাহগুলোতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক নির্ধারিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর চণ্ডীগড় এবং ৭ থেকে ৮ অক্টোবর বেঙ্গালুরুতে বসা বৈঠকে পেনশন সংক্রান্ত বৈষম্য ও ওআরওপি দাবির বিষয়টি তীব্রভাবে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

পেনশনের অঙ্কে আকাশছোঁয়া তফাত কেন? কর্মচারী সংগঠনগুলোর ক্ষোভের মূল কারণ লুকিয়ে রয়েছে অবসরের সময়ের পার্থক্যের মধ্যে। একই পদে এবং সমপরিমাণ চাকরি করেও কেবল অবসরের সাল আলাদা হওয়ার কারণে পেনশনের পরিমাণে বিশাল ফারাক তৈরি হচ্ছে।

উদাহরণস্বরূপ, তুলনামূলক চাকরির মেয়াদ সম্পন্ন করা ‘লেভেল ৬’-এর দুজন কর্মীর কথা ধরা যাক। ২০১৬ সালে সপ্তম বেতন কমিশনের আওতায় অবসর নেওয়া একজন কর্মী ২৪,৫০০ টাকা মূল পেনশন এবং ৫৮ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা মিলিয়ে মোট প্রায় ৩৮,৭১০ টাকা পান। অথচ ঠিক একই পদে থেকে ২০২৬ সালে অবসর নেওয়া কোনো কর্মী অষ্টম বেতন কমিশনের নতুন নিয়মে এর চেয়ে বহুগুণ বেশি পেনশন পাওয়ার কথা। ঠিক এই বৈষম্য দূর করতেই সশস্ত্র বাহিনীর মতো বেসামরিক ক্ষেত্রেও ওআরওপি চালুর দাবি উঠেছে।

কী বলছে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ও অন্যান্য প্রস্তাব? জাতীয় যৌথ পরামর্শদাতা পরিষদ বা এনসিজেসিএম (NCJCM) প্যানেলের কাছে ৩.৮৩৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের জোরালো প্রস্তাব রেখেছে। একই সঙ্গে বর্তমানের ১০ বছর বাদে বাদে বেতন ও পেনশন সংশোধনের নিয়ম বদলে তা প্রতি ৫ বছর অন্তর করার দাবিও জানানো হয়েছে।

হিসেব বলছে, ৩.৮৩৩ গুণকটি যদি শেষ পর্যন্ত গৃহীত হয়, তবে ২০২৬ সালে অবসর নেওয়া ‘লেভেল ৬’ স্তরের কর্মীর পেনশন প্রায় ৯৩,৯০০ টাকায় গিয়ে ঠেকতে পারে। পক্ষান্তরে, ২০১৬ সালের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী সেই পুরনো ৩৮,৭১০ টাকার আশপাশেই আটকে থাকবেন। এই বিশাল ব্যবধান ঘোচাতে অতীতে অবসর নেওয়া কর্মীদের ক্ষেত্রে ‘নোশনাল রিভিশন’ বা কাল্পনিক পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে পেনশন সমতায় আনার দাবি তুলছেন ইউনিয়নগুলোর প্রতিনিধিরা।

আগামী দিনে দেশজুড়ে যে কটি বৈঠক বাকি রয়েছে, তাতে এই অসামরিক ওআরওপি এবং নোশনাল ফিক্সেশনের দাবিগুলি আরও জোরালো হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে বেতন কমিশন কেবল প্রচলিত নিয়মে পেনশনের হার পুনর্বিন্যাস করবে, নাকি এক ধাক্কায় বেসামরিক কর্মীদের জন্য ওআরওপির মতো বৈপ্লবিক সুবিধা এনে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলা এই বৈষম্যের চিরতরে অবসান ঘটাবে, তা পরিষ্কার হবে কেবল ২০২৭ সালে প্যানেলের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা পড়ার পরেই।