অমিত শাহ নামার আগেই ধুন্ধুমার হিঙ্গলগঞ্জে! তড়িঘড়ি ওসি-কে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর উত্তাপ এখন তুঙ্গে। আর এই হাই-ভোল্টেজ আবহে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হিঙ্গলগঞ্জ সফরের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই বড়সড় পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ এবং কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে হিঙ্গলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (OC) সন্দীপ সরকারকে সরাসরি সাসপেন্ড করা হল। কমিশনের এই কড়া পদক্ষেপে পুলিশ মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
ঘটনার সূত্রপাত গত ২১ এপ্রিল, মঙ্গলবার। হিঙ্গলগঞ্জের কনকনগর এলাকায় বসিরহাটের বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্রের সমর্থনে প্রচারে এসেছিলেন অসমের প্রাক্তন বিধায়ক কিশোরনাথ। অভিযোগ ওঠে, ভোট কেনার জন্য ওই এলাকায় প্রকাশ্যেই টাকা বিলি করছিলেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে এবং তাঁর আরও দুই সহযোগীকে হাতেনাতে ধরে হিঙ্গলগঞ্জ থানার পুলিশের হাতে তুলে দেন। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, ওসি সন্দীপ সরকার কোনও এফআইআর (FIR) বা মামলা রুজু না করেই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁদের ছেড়ে দেন।
এই ঘটনার কথা জানাজানি হতেই সরব হয় রাজনৈতিক মহল। বিষয়টি পৌঁছায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তরে। অভিযোগ ওঠে, ওসি স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে গোপন আঁতাত রাখছেন এবং ভোটের ময়দানে সবার জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন।
কমিশনের কড়া বার্তা:
রাজ্যের মুখ্যসচিবকে লেখা চিঠিতে কমিশনের সচিব সুজিত কুমার মিশ্র স্পষ্ট জানিয়েছেন, অবিলম্বে সন্দীপ সরকারকে সরিয়ে দিতে হবে। শুক্রবার সকাল ১১টার মধ্যে এই নির্দেশের ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২১ এপ্রিল সিইও-র পাঠানো রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অমিত শাহের জনসভার ঠিক আগেই এই সাসপেনশন আদতে রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনকে কমিশনের এক কড়া হুঁশিয়ারি—ভোটের কাজে কোনোভাবেই পক্ষপাত বা গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।