অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বহাল! হাইকোর্টের ধাক্কায় অস্বস্তিতে তৃণমূল নেতা

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি লড়াইয়ে এক বড় ধাক্কা এল। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের একটি সাম্প্রতিক রায়ের ফলে তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সংক্রান্ত আইনি জটিলতা নতুন করে মাথাচাড়া দিল। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মানহানির মামলার প্রেক্ষাপটে আদালত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুকূলে থাকা অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছে, যা তৃণমূল নেতৃত্বের জন্য এক গভীর অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পুরো ঘটনাটির সূত্রপাত এক রাজনৈতিক জনসভায় অভিষেকের দেওয়া বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, ওই সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীর পুত্র আকাশ বিজয়বর্গীকে লক্ষ্য করে ‘গুন্ডা’ শব্দটি প্রয়োগ করেছিলেন। এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে আকাশ বিজয়বর্গী সোজা আদালতের দ্বারস্থ হন। বিজেপির অভিযোগ ছিল, এই ধরণের শব্দ প্রয়োগ কেবল ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং তা মানহানিকর এবং একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সম্মানহানির চূড়ান্ত প্রচেষ্টা। আকাশ বিজয়বর্গী একটি মানহানির মামলা দায়ের করেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় আদালত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

আইনি জটিলতার এই পর্বটি দীর্ঘায়িত হয় যখন ২০২৫ সালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি প্রতিনিধিরা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন। সে সময় আদালত প্রাথমিকভাবে তৃণমূল সাংসদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ওই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ বজায় রাখার নির্দেশ দেয়। এর ফলে প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে ওই পরোয়ানাটি কার্যকর করার ক্ষেত্রে আইনি বাধার সৃষ্টি হয়েছিল।

তবে সাম্প্রতিক শুনানিতে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট সেই অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই রায়ের ফলে নতুন করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। আদালতের এই সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রায়ের ফলে অভিষেকের আইনি ঝুঁকি অনেকটা বেড়ে গেল।

এদিকে, এই ঘটনা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না এলেও, দলের অভ্যন্তরীণ মহলে ধারণা করা হচ্ছে যে, বিষয়টিকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ হিসেবেই তুলে ধরা হবে। তৃণমূলের মতে, বিরোধীরা আইনি জটিলতা ব্যবহার করে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, বিজেপি শিবির আদালতের এই রায়কে ‘সত্যের জয়’ হিসেবে বর্ণনা করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেছে। বিজেপির বক্তব্য, কেউ আইন ও মর্যাদা ভুলে ব্যক্তিগত আক্রমণ করলে তাকে আইনের মুখোমুখি হতেই হবে।

বর্তমানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি টিম এই পরিস্থিতি সামাল দিতে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে। উচ্চতর কোনো আদালতে চ্যালেঞ্জ জানানো হবে কি না, তা নিয়েও জল্পনা চলছে। তবে আপাতত, হাইকোর্টের এই রায় রাজনৈতিক ও আইনি উভয় ক্ষেত্রেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই মামলার পরবর্তী মোড় কোন দিকে যায়, তার ওপর এখন নজর রয়েছে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতির।