অন্ধকারের অসুর দমনে রামের যুদ্ধ! হোগলা পাতা-ফলের বীজে তৈরি এই পরিবেশবান্ধব পুজোয় কেন এত ভিড়?

দুর্গাপূজায় থিমের লড়াইয়ে প্রতি বছরই নতুন কিছু উপহার দেয় পশ্চিম বর্ধমান। এবার ৪৪তম বর্ষে তেলিপুকুর সুকান্ত স্মৃতি সংঘের সবচেয়ে বড় চমক হলো তাঁদের থিম ‘রামায়ণ’। প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা বাজেটে তৈরি এই মণ্ডপে রাম, সীতা, লক্ষ্মণ, হনুমান সহ মহাকাব্যের নানা চরিত্র যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে। দর্শনার্থীরা বলছেন, এই মণ্ডপে ঢুকলে মনে হবে যেন শৈশবের স্মৃতিতে ফিরে গিয়েছেন।
রামায়ণের এক নতুন অভিজ্ঞতা
রামায়ণের নানা অধ্যায়—রাবণের বিরুদ্ধে রামের যুদ্ধ ঘোষণা, অগ্নিপরীক্ষার মধ্যে সীতার অবিচলতা, লক্ষ্মণের ভ্রাতৃত্ব ও হনুমানের ভক্তি—মণ্ডপের প্রতিটি কোণে নিপুণ হাতে ফুটিয়ে তুলেছেন মেদিনীপুরের দক্ষ শিল্পীরা।
পুজো কমিটির তরফে রাসবিহারী হালদার জানিয়েছেন, “আমাদের থিমের মাধ্যমে মানুষকে আনন্দ দিতে পেরে আমরা আপ্লুত। রামায়ণ কেবল বীরত্বের গল্প নয়, এটি সত্য, ন্যায়, ত্যাগ ও ভক্তির এক অনন্ত উপাখ্যান, যা আজও মানুষকে অনুপ্রেরণা জোগায়।”
মাল্টিমিডিয়া চমক: শুধু চোখে দেখা নয়, মণ্ডপে সাউন্ড সিস্টেমে শোনা যাচ্ছে মহাকাব্যের কাহিনী। এর সঙ্গে বিশেষ লেজার শো দর্শনার্থীদের রামায়ণের এক অন্য জগতে নিয়ে যাচ্ছে।
সেলফি পয়েন্ট: দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে তীর-ধনুক দিয়ে সেলফি পয়েন্ট, যেখানে অনেকেই হাতে তীর-ধনুক নিয়ে ছবি তোলার সুযোগ পাচ্ছেন।
পরিবেশবান্ধব উপকরণে তৈরি প্রতিমা
তেলিপুকুর সুকান্ত স্মৃতি সংঘের এই মণ্ডপটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব সামগ্রী দিয়ে তৈরি।
প্রাকৃতিক উপাদান: হোগলা পাতা, বিভিন্ন ফলের বীজ ও প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে প্রতিমা ও সজ্জা, যার মাধ্যমে প্রকৃতিও যেন পুজোর অংশ হয়ে উঠেছে।
ঢাকের তালে আর লেজার শো-এর আলো-আঁধারিতে যখন রামায়ণের কাহিনী মণ্ডপ ভরে তুলবে, তখন এই পুজো কেবল আনন্দের নয়, তা এক আধ্যাত্মিক যাত্রার অভিজ্ঞতা দেবে, যেখানে রাম, সীতা ও হনুমানের গুণাবলী আমাদের জীবনকে নতুন করে ভাবতে শেখাবে।