অতিরিক্ত মুখ ধোওয়াই ডেকে আনছে বিপদ! কীভাবে ফেরাবেন ত্বকের হারিয়ে যাওয়া জেল্লা?

আমরা অনেকেই ত্বক সংক্রান্ত নানা সমস্যায় ভুগি, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বুঝতে পারি না যে সমস্যাটি আসলে ত্বকের নিজস্ব সুরক্ষাস্তর বা ‘স্কিন ব্যারিয়ার’ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে ঘটছে। স্কিন কেয়ার রুটিন মেনে চলার পরও ত্বক কেন শুষ্ক ও নির্জীব হয়ে পড়ছে, তা বুঝতে গেলে আগে জানতে হবে ত্বকের এই অদৃশ্য বর্ম বা সুরক্ষাস্তরের ভূমিকা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ত্বকের সবচেয়ে বাইরের স্তরটিকে বলা হয় ‘স্ট্র্যাটাম কর্নিয়াম’ (stratum corneum)। এই স্তরের মূল কাজ হলো পরিবেশের ধুলোবালি ও ক্ষতিকর উপাদান থেকে ত্বককে বাঁচানো এবং ভেতরের আর্দ্রতা ধরে রাখা। এটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায়, দেখা দেয় চুলকানি, লালচে ভাব ও নানা ধরনের সংক্রামক প্রদাহ।

দৈনন্দিন কিছু ভুল অভ্যাসের কারণে এই সুরক্ষা বর্ম ভেঙে পড়তে পারে। যেমন—প্রয়োজনের চেয়ে বেশিবার মুখ ধোওয়া। দিনে দু’বারের বেশি ফেসওয়াশ ব্যবহার করলে ত্বকের স্বাভাবিক তেল বা আর্দ্রতা পুরোপুরি হারিয়ে যায়। পাশাপাশি, শীতকালে গরম জল দিয়ে মুখ ধোওয়া বা অ্যালকোহলযুক্ত টোনার ও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা ত্বককে চরম শুষ্ক করে তোলে। মৃত কোষ তোলার জন্য খুব জোর দিয়ে বা ঘনঘন স্ক্রাবিং করাও স্কিন ব্যারিয়ারের ব্যাপক ক্ষতি করে।

ক্ষতিগ্রস্ত স্কিন ব্যারিয়ার পুনরুদ্ধারে পিএইচ (pH) মাত্রার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ পরিষ্কারের পণ্যের পিএইচ মাত্রা সবসময় ৪.০ থেকে ৫.০-এর মধ্যে থাকা উচিত। গবেষণায় দেখা গেছে, জোজোবা, নারকেল, আমন্ড, আরগান এবং সয়াবিন তেলের ব্যবহার ত্বকের এই প্রাকৃতির বর্ম মেরামত করতে বেশ কার্যকরী। এছাড়া, সেরামাইড (Ceramides) সমৃদ্ধ স্কিনকেয়ার পণ্য ত্বকের খসখসে ভাব ও চুলকানি দূর করে প্রাকৃতির উজ্জ্বলতা ফেরাতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। (বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই তথ্য সাধারণ সচেতনতার জন্য দেওয়া হয়েছে। যেকোনো স্কিনকেয়ার পণ্য বা ঘরোয়া টোটকা ব্যবহারের আগে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া শ্রেয়।)